অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে স্কুলের ক্লাসরুমে ঢুকে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চেইনস দিয়ে আক্রমণের ঘটনায় নতুন মোড়। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর অপরাধের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পথে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত যুবক। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার পাশাপাশি ছুরি নিয়ে হামলারও চেষ্টা করে সে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায় পুলিশ। ছ’টি গুলিতে গুরুতর জখম হয় ২১ বছরের হেমন্ত ওরফে দুম্মু। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় অনন্তপুরের আত্মাকুর জঙ্গলের কাছে বিশেষ পুলিশ বাহিনী হেমন্তকে খুঁজে পায়। শনিবার স্কুলে হামলার পর থেকেই পলাতক ছিল সে। অভিযুক্তের খোঁজে প্রায় ২৫টি বিশেষ পুলিশ দল তৈরি করা হয়েছিল। রবিবার গোপন সূত্রে তার অবস্থান জানতে পারে পুলিশ। এর পর দু’টি দল ওই এলাকায় পৌঁছয়। পুলিশের দাবি, প্রথমে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল হেমন্তকে। এমনকি সতর্ক করতে শূন্যেও গুলি চালানো হয়। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। উল্টে সে পুলিশকর্মীদের দিকে পাথর ছুড়তে শুরু করে। ছুরি নিয়ে হামলারও চেষ্টা করে। এই ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিক আহত হন। শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার তাগিদে ছ’টি গুলি চালায় পুলিশ। কোমরের নীচে একাধিক গুলির আঘাত লাগে হেমন্তের। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তাকে অনন্তপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কেন এই হামলা?
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। অনন্তপুর জেলার রাপ্তাডুর জিলা পরিষদ সরকারি স্কুলে তখন ক্লাস চলছিল। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চেনস হাতে ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ে হেমন্ত। তার নিশানায় ছিল দশম শ্রেণির ১৫ বছরের এক ছাত্রী। অভিযোগ, ওই ছাত্রীর উপর আচমকাই হামলা চালায় সে। মুখ, গলা, পিঠ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে ছাত্রীর। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয় আরও এক সহপাঠী। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
পুলিশ জানিয়েছে, হেমন্ত নির্যাতিতার মামা। সে শ্রী সত্য সাই জেলার নাগালুরু গ্রামের বাসিন্দা। কিছুদিন ধরে নিজের দিদির সঙ্গে আয়্যাভারিপাল্লে গ্রামে থাকছিল সে। পরিবারের অভিযোগ, ভালবাসার নামে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে উত্যক্ত করছিল হেমন্ত। সেই ঘটনার জেরেই হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এ দিকে, আক্রান্ত ছাত্রীকে প্রথমে অনন্তপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্সে গ্রিন করিডর করে তাকে বেঙ্গালুরুর মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করেন। শিক্ষামন্ত্রী নারা লোকেশ জানিয়েছেন, ছাত্রীর রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনায় স্কুলের পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। আহত দুই ছাত্রীর চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছে রাজ্য সরকার।