পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বিক্ষোভে আজও অশান্ত রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশ। গতকাল থেকেই ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে বাংলাদেশের পথে নেমে বিক্ষোভে শামিল হন এই পোশাকশিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা। ঘটনার জেরে বাংলাদেশে প্রায় দেড়শো পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। এরই মাঝে এই বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলছে বাংলাদেশের সরকার।
বাংলাদেশের ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আজ সোমবারও বিক্ষোভ দেখা যায় পোশাকশ্রমিদের। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে সেখানে। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেন। এদিকে, গাজিপুরে শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। জানা যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক সহ বিজিবির একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল হাইওয়ে সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। এদিকে, আশুলিয়ার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, এমনই ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, বাংলাদেশে ছাত্র জনতা প্রবল আন্দোলনের জেরে ক্ষমাচ্যুত হন হাসিনা। এরপর দেশে তাঁর ঘোষিত ফেরার মাসের আগে আরও এক বিক্ষোভ। পোশাকশিল্পীদের এই বিক্ষোভ নিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পোশাকশিল্পের মালিকরা যাঁরা আওয়ামি লিগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁরাও অস্থিরতা সৃষ্টি পেছনে কাজ করেছেন। দুঃখজনক বিষয় হলো, এর পেছনে কিছু শিল্পমালিক জড়িত। প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও (বাংলাদেশের) এর সঙ্গে জড়িত আছেন।’ এদিকে, বিবিসি বাংলার খবর অনুসারে গতকাল বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের নামে অনেকেই ভিন্ন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।’ ‘প্রথম আলো’র খবর অনুসারে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সোমবার বলেন, কিছু শিল্পমালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন। তাঁর সাফ কথা, ‘আমরা কোনও শিল্পকারখানা বন্ধ হোক, সেটা চাই না। এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হোক, সেটা চাই না।’

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের রেডিমেড পোশাক শিল্প, সেদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ছিল। সেই সময় বাংলাদেশে ফুলেফেঁপে ওঠে এই শিল্পের পরিসর। রয়টার্সের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত আছেন, যা বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশ এবং জিডিপিতে প্রায় ১০ শতাংশ অবদান রাখে। এদিকে, বিশ্বব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে মাত্র ৩.৪% , যা কোভিড-১৯ এর বছর ২০২০-এর পর থেকে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির হার, এমনই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বিক্ষোভ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।