ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থীকে হারিয়ে চমক ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া ডান্ডিয়ার

Spread the love

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে আরও এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতের জয়। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কংগ্রেসনাল কেন্দ্র থেকে জয়ী হলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পিয়া ডান্ডিয়া। রিপাবলিকান প্রার্থী তথা প্রাক্তন সেনাকর্মী কেসি আসকারকে হারিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যাওয়ার টিকিট পেলেন তিনি। এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ফ্লোরিডার এই আসনকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বেশ কঠিন বলে মনে করা হচ্ছিল। তার উপর প্রতিপক্ষ আসকার ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক। ফলে এই আসনে পিয়ার জয় ডেমোক্র্যাট শিবিরের কাছে বড় সাফল্য হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পিয়া পেয়েছেন ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৯২৬টি ভোট। অন্য দিকে, আসকারের ঝুলিতে গিয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৩৩টি ভোট। অর্থাৎ, প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই নেত্রী। ৩ নভেম্বর আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়। ভারতীয় সময় বুধবার থেকে ফল প্রকাশ শুরু হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের সাফল্যও নজর কেড়েছে।

কে এই পিয়া ডান্ডিয়া?

পিয়ার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে। তাঁর বাবা-মা ভারত থেকে আমেরিকায় চলে গিয়েছিলেন। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল পিয়ার। পেশাগত জীবন শুরু করেন স্কুলশিক্ষক হিসাবে। মাত্র ২৮ বছর বয়সে একটি হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পান তিনি। সেই সময় আমেরিকার কনিষ্ঠতম স্কুল প্রধানদের অন্যতম ছিলেন পিয়া।

শিক্ষকতা এবং স্কুল পরিচালনার অভিজ্ঞতার পর সরকারি কাজেও যুক্ত হন তিনি। হোয়াইট হাউস ফেলো হিসাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান, দুই দলের প্রেসিডেন্টের প্রশাসনেই কাজ করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের ডোমেস্টিক পলিসি কাউন্সিল এবং শিক্ষা দফতরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরে প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপলের হয়ে কাজ করেন। সেখানে সরকারি পরিষেবা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পিয়া।

কী ছিল পিয়ার প্রচারের মূল বিষয়?

নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন পিয়া। তাঁর বক্তব্য ছিল, আমেরিকায় জীবনযাত্রার খরচ ক্রমশ বাড়ছে। সাধারণ পরিবারের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতে হবে। কংগ্রেসে গেলে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, উন্নত শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ বাড়ানোর জন্য কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তার পক্ষেও সওয়াল করেন পিয়া। তাঁর মতে, সোশ্যাল সিকিউরিটি, মেডিকেড এবং প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য সরকারি সহায়তা দুর্বল করা উচিত নয়। বড় সংস্থা এবং ধনকুবেরদের প্রভাবের বদলে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

অন্য দিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী কেসি আসকার পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি মার্কিন মেরিন কর্পসের প্রাক্তন সদস্য। রেস্তরাঁ ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমর্থক হিসাবেই প্রচার চালিয়েছিলেন আসকার।

নতুন করে সাজানো আসনে জয়

ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ এ বার বদলে গিয়েছিল। গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের উদ্যোগে ২০২৬ সালের মে মাসে নতুন করে নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণ করা হয়। তাতে এই কেন্দ্রের ভৌগোলিক চরিত্র এবং ভোটের অঙ্ক অনেকটাই বদলে যায়। নতুন মানচিত্রে পাম বিচ, ব্রোওয়ার্ড এবং হেন্ড্রি কাউন্টির একাধিক এলাকা যুক্ত হয়েছে। রিপাবলিকানদের জন্য আসনটি তুলনামূলক সুবিধাজনক হতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল।

সেই পরিস্থিতিতে পিয়ার জয় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। আমেরিকার রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। সুহাস সুব্রহ্মণ্যমের মতো নেতারাও এ বারের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন পিয়া ডান্ডিয়া। তাঁর জয় মার্কিন কংগ্রেসে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়াল।

Leave a Reply