ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েও শেষরক্ষা হল না। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ওহায়ো প্রদেশের গভর্নর পদে হেরে গেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান নেতা বিবেক রামাস্বামী। তাঁকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটন। এই জয়ের ফলে গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার ওহায়োর গভর্নর পদে ফিরল ডেমোক্র্যাটরা। শুধু তাই নয়, প্রদেশটির ইতিহাসে প্রথম মহিলা গভর্নর হিসাবেও দায়িত্ব নিতে চলেছেন অ্যাকটন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলকে আমেরিকার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
বিবেক রামাস্বামীকে শুরু থেকেই সমর্থন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তাঁর পাশে ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ খরচ করেছিলেন রামাস্বামী এবং তাঁর সমর্থকেরা। অ্যাকটনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। এমনকি ধনকুবের ইলন মাস্কও রামাস্বামীর সমর্থনে তৈরি রাজনৈতিক সংগঠনকে অন্তত ৫০ লক্ষ ডলার দিয়েছিলেন। কিন্তু এত প্রচার, অর্থ এবং রাজনৈতিক সমর্থন কোনও কিছুই শেষ পর্যন্ত কাজে এল না।
বিতর্কিত বিজ্ঞাপন নিয়ে অস্বস্তি
নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্বে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন রামাস্বামী। অ্যাকটনের বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা মাকে নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করে তাঁর শিবির। সেখানে অ্যাকটনের মা মেয়েকে মিথ্যাবাদী বলে দাবি করেন এবং ভোটারদের তাঁকে নির্বাচিত না করার আবেদন জানান।
এই বিজ্ঞাপন ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। অ্যাকটনের শৈশবের একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং বেদনাদায়ক বিষয়ও তাতে তুলে আনা হয়েছিল। ছোটবেলায় তাঁর সৎবাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর তাঁর মা সন্তানদের হেফাজত হারান। এই পুরনো পারিবারিক বিষয়কে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করায় ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান নেতাদের একাংশও আপত্তি জানান। ওহায়োর বিদায়ী রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনও ওই বিজ্ঞাপনের সমালোচনা করেন। তবে ট্রাম্প বিজ্ঞাপনটির প্রশংসা করেছিলেন। জেডি ভ্যান্সও রামাস্বামীর প্রচার কৌশলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভোটের প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
কে এই অ্যামি অ্যাকটন?
৬০ বছর বয়সি অ্যামি অ্যাকটন পেশায় চিকিৎসক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসাবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অতীতে ওহায়ো প্রদেশের স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। কোভিড অতিমারির সময় প্রাক্তন রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের সঙ্গে কাজ করে নজর কেড়েছিলেন অ্যাকটন। তবে এর আগে কখনও নির্বাচনে জয়ী হয়ে কোনও সরকারি পদে বসেননি তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অ্যাকটন। তাঁর প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার ছিল নিজের জীবনের লড়াইয়ের কাহিনি। ওহায়োর ইয়ংস্টাউনে বড় হয়েছেন তিনি। শৈশবে আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। একসময় গৃহহীন অবস্থাতেও থাকতে হয়েছিল। এমনকি শীতকালে তাঁবুতে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শ্রমজীবী এবং মধ্যবিত্ত ভোটারদের কাছে পৌঁছন অ্যাকটন।

ওহায়োর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন
অন্য দিকে, নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগেও প্রচারে নেমে সম্পত্তিকরের বোঝা কমানো, বিদ্যুতের বিল হ্রাস, সাশ্রয়ী বাড়ি এবং নিরাপদ রাস্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রামাস্বামী। ভোটারদের কাছে নিজের প্রতিশ্রুতির জন্য জবাবদিহি করার কথাও বলেছিলেন তিনি।