ইরানের পাশে দাঁড়ানোর মাশুল গুনতে হল ভারতীয় দম্পতিকে!কি করেছেন তারা?

Spread the love

ভারতের এক দম্পতি এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।ইরানের পাশে দাঁড়ানোর মাশুল গুনতে হল ভারতীয় দম্পতিকে।

জানা যায়, বুধবার মার্কিন অর্থ দপ্তর এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে আমেরিকার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানকে যারা সাহায্য করবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তাঁর কথায়, ‘হয় আমাদের সঙ্গে থাকুন, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে’।  আমেরিকার অভিযোগ, জাল নথি, ভুয়ো জাহাজের জাতীয়তা এবং প্রতারণামূলক সামুদ্রিক শংসাপত্র ব্যবহার করে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করছিলেন তাঁরা।

মার্কিন বিবৃতি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা সুনীল কুমার শর্মা এবং তাঁর স্ত্রী জসপ্রীত প্রীতি শাহিদ। পাশাপাশি তাঁদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় নাগরিক অশ্বিনী কুমার ধীমান এবং ইশবিন্দর সিংয়ের নামও রয়েছে। শর্মা ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থাকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপনে তেল পরিবহণকারী জাহাজগুলিকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়াতে সাহায্য করে আসছিল।

 ওয়াশিংটনের অভিযোগ, শর্মা ও তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি বলে নিজেদের পরিচয় দিতেন। গায়ানা, এসওয়াতিনি, লাওস, আরুবা, মালি, মোজাম্বিক-সহ একাধিক দেশের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে জাহাজের রেজিস্ট্রেশন, পতাকা ব্যবহারের অনুমতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত শংসাপত্র দেওয়ার পরিষেবা চালানো হত। অথচ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সরকার তাঁদের এমন কোনও অনুমতি দেয়নি বলে দাবি মার্কিন প্রশাসনের।

আমেরিকার দাবি, এই জাল শংসাপত্র ব্যবহার করে ইরানের তেল পরিবহণকারী নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলি নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে সমুদ্রপথে চলাচল করত। এমনকী, ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির হয়ে কাজ করা জাহাজও এই ব্যবস্থার সুবিধা পেয়েছে বলে অভিযোগ। ২০১৪ সাল থেকেই এই ধরনের প্রতারণামূলক কাজের সূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ দপ্তর। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে তৈরি একটি সংস্থার মাধ্যমেও এসওয়াতিনির নামে জাহাজের নিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ এসওয়াতিনির কর্তৃপক্ষ ওই সংস্থার সঙ্গে নিজেদের কোনও সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

এই ঘটনার জেরে শুধু দম্পতি বা তাঁদের ব্যবসায়িক সংস্থাই নয়, তুরস্কের Fugo Ground Services নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। মার্কিন অভিযোগ, সংস্থাটি ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকা একাধিক বিমান সংস্থাকে বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা দিত। ফলে স্থল, জল এবং আকাশ—তিন পথেই ইরানের উপর চাপ বাড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন।

Leave a Reply