India Will Not Bow Its Head Before China: Piyush Goyal
চিনের চাপের কাছে মাথা নত করবে না ভারত। প্রয়োজনে নিজেদের প্রযুক্তি এবং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশেই তৈরি হবে অত্যাধুনিক যন্ত্র। মঙ্গলবার দিল্লির কিরোরি মাল কলেজে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে এই বার্তাই দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। তাঁর কথায়, চিন যখন ভারতের জন্য বিরল খনিজ পদার্থ (রেয়ার আর্থ) সরবরাহ বন্ধ করেছিল, তখন ভারত তাদের কাছে হাত পাতেনি। বরং দেশীয় সংস্থাগুলিকে বিকল্প প্রযুক্তি তৈরির কাজে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এ বার চিন যদি টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তা হলেও ভারত পিছিয়ে থাকবে না। দেশেই এই যন্ত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে (India Will Not Bow Its Head Before China)।
পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন গয়াল। স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের দুগ্ধক্ষেত্র বিদেশি সংস্থার জন্য খুলে দেওয়া হবে না। জিনগত পরিবর্তন করা (জিএম) পণ্যও আমদানি করতে দেওয়া হবে না।
‘চিনের কাছে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যায়নি ভারত’
চিনের উপর প্রযুক্তিগত নির্ভরতা কমানোই এখন ভারতের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে বিরল খনিজের সরবরাহ নিয়ে চিনের সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিভিন্ন ধরনের মোটর এবং আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গয়াল বলেন, চিন যখন বিরল খনিজ সরবরাহে বাধা দিয়েছিল, তখন ভারত তাদের কাছে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যায়নি (India Will Not Bow Its Head Before China)। বরং দেশীয় স্টার্টআপ সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করে বিকল্প প্রযুক্তি তৈরির কথা বলা হয়েছিল। বিরল খনিজের ব্যবহার ছাড়াই কী ভাবে মোটর তৈরি করা যায়, সেই বিষয়ে উদ্যোগ নিতে উৎসাহ দেওয়া হয়। মন্ত্রীর দাবি, কয়েকটি ভারতীয় স্টার্টআপ ইতিমধ্যেই বিরল খনিজ ছাড়া মোটর তৈরি করতে শুরু করেছে। গুণমান এবং দক্ষতার ক্ষেত্রেও সেগুলি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সক্ষম।
এ বার টানেল বোরিং মেশিন নিয়েও একই পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছেন তিনি। চিন যদি এই যন্ত্র সরবরাহ না করে, তা হলে ভারতেই তা তৈরি করা হবে (India Will Not Bow Its Head Before China)। তবে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার কোনও ইচ্ছা ভারতের নেই বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

India Will Not Bow Its Head Before China
১৮ নভেম্বর থেকে চিনের নতুন বিধিনিষেধ
উল্লেখ্য, আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে টানেল বোরিং মেশিন রফতানির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করতে চলেছে চিন। এই ধরনের যন্ত্র রফতানি করতে হলে বিশেষ অনুমতিপত্র নিতে হবে বলে জানিয়েছে বেজিং (India Will Not Bow Its Head Before China)। পরিকাঠামো নির্মাণে এই যন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। মেট্রো রেল, রেলপথ এবং সড়কের জন্য সুড়ঙ্গ তৈরিতে টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করা হয়।
ভারতের ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বই-আমদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পেও এই যন্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে। প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রের তলার সুড়ঙ্গ তৈরি হওয়ার কথা। ফলে চিনের নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে ভারতের পরিকাঠামো প্রকল্পে কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে নজর রয়েছে।
দুগ্ধক্ষেত্র ও জিএম পণ্য নিয়ে আপস নয়
চিনের পাশাপাশি আমেরিকার উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন গয়াল। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সেখানে আমেরিকার অন্যতম দাবি, ভারতের বাজারে জিএম কৃষিপণ্য এবং দুগ্ধজাত পণ্যের প্রবেশ আরও সহজ করা। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রেই কোনও আপস করতে রাজি নয় কেন্দ্র।
গয়াল বলেন, ভারত এখনও পর্যন্ত কোনও দেশের জন্য নিজের দুগ্ধক্ষেত্র খুলে দেয়নি (India Will Not Bow Its Head Before China)। ভবিষ্যতেও তা করা হবে না। জিএম পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থান বজায় থাকবে। তাঁর বক্তব্য, দেশের কৃষক, মৎস্যজীবী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।
দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি। বিদেশে পনির তৈরির সময় অনেক ক্ষেত্রে বাছুরের পাকস্থলী থেকে পাওয়া রেনেট ব্যবহার করা হয়। তাই আমদানি করা দুগ্ধজাত পণ্যে কী ধরনের উপাদান ব্যবহার হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের নিজস্ব শর্ত
গয়ালের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের লক্ষ্য শুধু বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া নয়। দেশের যে সমস্ত ক্ষেত্রে উৎপাদন ও রফতানির ক্ষমতা বেশি, সেগুলির জন্য বাড়তি সুবিধা আদায় করতে হবে। বস্ত্র, ওষুধ, সামুদ্রিক পণ্য, কৃষিজাত সামগ্রী এবং রত্ন ও গয়নার মতো ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
Tag: Piyush Goyal on China | National News | Politics
Follow Us on: YouTube