Alimuddin Street Chandi Path। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে চণ্ডীপাঠ সনাতনীদের! ‘এসব করে লাভ নেই’

Spread the love

Alimuddin Street Chandi Path: দুর্গাপুজো না লিখলে মণ্ডপের কাছে সিপিএম-এর বুক স্টল করা যাবে না বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম-এর সদর কার্যালয় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে চণ্ডীপাঠের আয়োজন করল এনডিএ-এর শরিক দল রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া (আঠাওয়ালে)। বেশ কয়েকজন মহিলা সেখানে চণ্ডীপাঠ করেন। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুও (Sayantan Basu)। ফলে সেখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে ওঠে। এ নিয়ে আলিমুদ্দিনের কর্তাদের অবশ্য বিশেষ মাথাব্যথা নেই। সিপিএম-এর বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘আমাদের অনেক কর্মী আছেন, যাঁরা ওঁদের সঠিকভাবে চণ্ডীপাঠ করাটা শিখিয়ে দিতে পারবেন।’

আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম রাজ্য দফতর। এজেসি বোস রোড থেকে আলিমুদ্দিনে ঢোকার মুখে যে পেট্রোল পাম্প রয়েছে, সেখানেই চণ্ডীপাঠের মঞ্চ বাঁধা হয়। সত্যজিৎ দাস নামে জনৈক বিশারদকে অতিথি করে মঙ্গলবার আলিমুদ্দিনে চণ্ডীপাঠের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পূ্র্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এদিন সকাল থেকে চণ্ডীপাঠ শুরু হয়। বেশ কয়েকজন মহিলা উদাত্ত কণ্ঠে পাঠ করেন। মাইক্রোফোনের দৌলতে সেই শব্দ পৌঁছে যায় বহু দূর পর্যন্ত। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে মুজাফ্ফর আহমেদ ভবন সিপিএমের সদর দফতর, অন্যান্য বামপন্থী দলগুলিও অহরহ এখানে আসে দলীয় কাজের জন্য। সেই পার্টি অফিসের অদূরেই এই চণ্ডীপাঠের আয়োজন করা ‘নাস্তিক’ বামেদের বিশেষ বার্তা দেওয়া বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এ প্রসঙ্গে চণ্ডীপাঠে অংশগ্রহণকারী এক ব্যক্তি বলেন, ‘এই বামপন্থীরা সবসময় সনাতন ধর্মকে অপমান করে এসেছে। আমরা তাই ওদের পার্টি অফিসের সামনেই আজ নিজেদের ধর্মপালন করলাম। এখন আর কেউ বাধা দিতে পারবে না।’

দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল বিজেপি (BJP) বিরোধী রাজনৈতিকদল ও সংগঠনগুলি। তারই অঙ্গ হিসেবে ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতে মঙ্গলবার নাগরিক কনভেশন হবে ‘গণশক্তি’র দফতরের পাশের জমিতে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikashranjan Bhattacharya), জহর সরকারের পাশাপাশি তাতে উপস্থিত থাকার কথা অভিনেতা প্রকাশ রাজ (Prakash Raj) এবং প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসারও। বিকেলে সেই কনভেনশনের আগে এদিন সকালে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের হিন্দু ধর্মগুরুদের উপস্থিতিতে চণ্ডীপাঠের এই আয়োজন হয়। চণ্ডীপাঠের সঙ্গেই বক্তব্য রাখেন সায়ন্তন বসু, সত্যজিৎ দাস, সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী, দেবাননন্দ মহারাজ, খনা মা-সহ অন্যান্যরা। বক্তরা স্পষ্ট বলেন, ‘বাংলার সংস্কৃতি কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। সনাতন ধর্ম, ভারতীয় সভ্যতা এবং আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য কোনও বামপন্থীদের রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকে না।’

যদিও চণ্ডীপাঠ অর্থাৎ সনাতনী সংস্কৃতির এই চর্চা বামেদের নীতি বিরোধী বলে মনে করছেন না কমরেডকুলের নেতারা। বরং বিষয়টিকে হালকাভাবেই গ্রহণ করেছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘এসব করে লাভ নেই। আমাদের এমন বহু কর্মী আছেন, যাঁরা ওঁদের ভালো করে চণ্ডীপাঠ শিখিয়ে দিতে পারবেন। আজ যেটা হল, সেটা আদৌ সঠিকভাবে চণ্ডীপাঠ কিনা, সেটা আমাদের কর্মীরাই বলে দিতে পারবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *