উত্তেজনা বাড়ছে দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের সঙ্গে।আর সেই লক্ষ্যেই ভারতের কাছ থেকে আরও ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে এগোচ্ছে ম্যানিলা। সূত্রের খবর, এই নিয়ে নয়াদিল্লি ও ম্যানিলার মধ্যে আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে। নতুন চুক্তি হলে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে ভারতের। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বাড়াতে চাইছে ফিলিপিন্স।
২০২২ সালে ভারতের সঙ্গে প্রথম ব্রহ্মস চুক্তি করেছিল ফিলিপিন্স। সেই চুক্তির আওতায় নৌবাহিনীর ব্যবহারের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের কথা ছিল। চুক্তির মূল্য ছিল ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার। সেই সরবরাহের কাজ প্রায় শেষের পথে। তার মধ্যেই আরও ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে ম্যানিলা। প্রথম চুক্তির তুলনায় নতুন চুক্তির অঙ্ক অনেকটাই বেশি হতে চলেছে।
ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র আরসেনিও অ্যান্ডোলং জানিয়েছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আরও ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। অন্য দিকে, দিল্লি ডিফেন্স ডায়লগে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরোও আরও ব্রহ্মস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে নিজেদের চাহিদার একটি তালিকা পাঠিয়েছে ম্যানিলা। ফিলিপিন্সের ভৌগোলিক ও সামরিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
গত বছর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘর্ষের সময় প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্রহ্মস ব্যবহার করা হয়েছিল। তার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে এই ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। জুলাই মাসে ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মস সরবরাহের কথা ঘোষণা করেছে ভারত। ভিয়েতনামের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের সঙ্গেও ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির ক্ষেত্রেও ভারতের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। চলতি বছরের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮৪২৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষের তুলনায় বৃদ্ধি ৬২ শতাংশেরও বেশি। ফিলিপিন্সের সঙ্গে নতুন ব্রহ্মস চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিপিন্স নতুন করে প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনতে পারে। সব মিলিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা হতে পারে প্রায় ৬০টি। এই চুক্তির বিষয়ে সরাসরি অবগত তিনটি সূত্রের কাছ থেকে এই তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে দু’টি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস বিশ্বের দ্রুততম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। স্থলভাগ, যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায়। ফলে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এই অস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমান্ত ও অধিকার নিয়ে ফিলিপিন্সের সংঘাত বাড়ায় ব্রহ্মসের মতো ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।