Indian Defence Export to Europe: ইউরোপের অস্ত্রশস্ত্রের ‘খিদে’ মেটাচ্ছে ভারত। কারণ শেষ চার বছরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভারতের অস্ত্রশস্ত্র রফতানির পরিমাণ বাড়ল প্রায় ১৮ গুণ। সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে ডিফেন্স নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চার বছরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৮৭২ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৮,৩০০ কোটি টাকার মতো) মূল্যের গোলাবারুদ-সহ অস্ত্রশস্ত্রের বিভিন্ন উপকরণ রফতানি করেছে ভারত। যা পূর্ববর্তী চার বছরের থেকে প্রায় ১,৬৬৫ শতাংশ বেশি।
৪৭০ কোটি টাকা থেকে ৮,৩০০ কোটি টাকায় লাফ
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্লুমবার্গের পরিসংখ্যান থেকে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের চার বছরে ভারত থেকে ইউরোপে গোলাবারুদ-সহ অস্ত্রশস্ত্রের বিভিন্ন উপকরণ রফতানির অঙ্কটা ছিল মাত্র ৪৯.২ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৪৭০ কোটি টাকার মতো)। কিন্তু এই চার বছরে সেই অঙ্কটা লাফিয়ে প্রায় ১৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ওই পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
রফতানির নিরিখে প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া, তারপরই ভারত
আর সেই চমকপ্রদ সংখ্যার মধ্যে সামনে এসেছে আরও একটি পরিসংখ্যান। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্লুমবার্গের পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানা গিয়েছে যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে চার বছরে মধ্য এবং পূর্ব ইউরোপের ১৩টি দেশে গোলাবারুদ এবং সহযোগী উপকরণ রফতানির নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। সামনে আছে একমাত্র দক্ষিণ কোরিয়া।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিশ্বে রেকর্ড রফতানি ভারতের
এমনিতে ইউরোপের বাজারে যে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি জাঁকিয়ে বসছে, সে বিষয়ে আগেই জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং। তিনি জানিয়েছিলেন, ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম রফতানিকারক হয়ে উঠেছে ভারত। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ভারতীয় অস্ত্রের চাহিদা ক্রমশ বেড়েছে। তার জেরে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তো রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকার রফতানি করেছে ভারত। যা পূর্ববর্তী অর্থবর্ষে ছিল ২৩,৬২২ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি করে ভারত।

আর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের সেই রফতানি বিপ্লবের অন্যতম ‘মুখ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল এবং আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। অপারেশন সিঁদুরের সময় ব্রহ্মসের পাশাপাশি আকাশও অত্যন্ত সাফল্য লাভ করেছে। ব্রহ্মস একদিকে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আবার আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছে পাকিস্তান। সেটা সারা বিশ্বই দেখেছে। আর তার ফলে রফতানির বাজারে ওই দুটির চাহিদা লাফিয়ে বেড়ে গিয়েছে।