কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবর্ধনা দেবেন লিওনেল মেসি, রড্রিগো, সুয়ারেজদের। তবে মেসিরা সময়ের আগেই স্টেডিয়াম ছাড়েন। চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আর দেখা হয়নি মেসির। সংবর্ধনা দেওয়ার আগেই মাঠ ছেড়ে চলে যান মেসি। সময়সূচি অনুযায়ী যে সময় মেসির যুবভারতী থেকে বেরনোর কথা ছিল তার অনেক আগেই লুই সুয়ারেজ, রড্রিগো ডি’পল সহ বেরিয়ে যান মেসি। এরপরই দর্শকরা মাঠে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। এদিকে যুবভারতীর অব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রিপোর্ট তলব করলেন রাজ্য সরকারের থেকে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বারের জন্য আজ কলকাতায় পা রাখেন লিওনেল মেসি। এবং ভোররাতে তিনি শহরে পা রাখার পর থেকেই ভক্তদের উন্মাদনা চরমে। ভোররাতেই কয়েক হাজার সমর্থক বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছিল মেসিকে স্বাগত জানাতে। আর আজও যুবভারতীতে মেসিকে দেখতে ভক্তদের ঢল নেমেছিল। বহু দূর দূরান্ত থেকে মেসিকে দেখতে কলকাতায় আসেন। তবে শুরুতে সব ঠিকঠাক থাকলেও মাঝে ধরা পড়ে অব্যবস্থা। এই আবহে মেসি মাঠ প্রদক্ষিণ করে ২০ মিনিটেই মাঠ ছাড়েন। এরপরই দর্শকরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বোতল ছোঁড়েন মাঠে। যুবভারতী না গিয়ে মাঝপথেই ফিরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে মেসি চলে যান দমদম বিমানবন্দরে। সেখান থেকে তাঁর হায়দরাবাদে যাওয়ার কথা।
আজ সাড়ে এগারোটা নাগাদ আর্জেন্টিনীয় মহাতারকা পৌঁছে যান যুবভারতীতে। লুইস সুয়ারেজ এবং রডরিগো ডি’পলকে সঙ্গে নিয়ে যুবভারতীতে ঢোকেন মেসি। এদিকে মেসি ট্যুরে গিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এর আগে নিজের মূর্তি উন্মোচন করেন মেসি। তখন আর্জেন্টাইন মহাতারকার পাশে ছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। শাহরুখ খান এবং তাঁর ছেলে আব্রামও ছিলেন সেখানে। মেসির সঙ্গে ছেলের ছবি তুলে দেন শাহরুখ। সেই সময় যুবভারতীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সংবর্ধনা গ্রহণের কথা ছিল মেসিদের। তবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পরই তিন তারকাকে অস্বস্তিতে দেখা যায়। এই আবহে মেসিরা আগেভাগে টানেল দিয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপরই পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ছুঁড়তে শুরু করে দর্শকরা। ব্যানার ছিড়ে ফেলে উত্তেজিত জনতা। ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে নামে তারা। গ্যালারিতে ভাঙা হয় আসন। দর্শকদের অভিযোগ, হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কাটলেও মাঠে মেসিকে ভালো করে দেখতে পাননি তাঁরা।
