মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও বৈধ নথি নয় – স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন, তাতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে বিচার করা হবে না। কারণ প্রাথমিকভাবে যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, তাতে বৈধ নথির তালিকায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথির তকমা দিল না কমিশন।
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড অনেক জায়গায় বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়
এমনিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষত বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ডকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আগেও হত। এখনও হয়। কিন্তু এসআইআরের ক্ষেত্রে সেই পথে হাঁটল না কমিশন। যে কমিশন হামেশাই নিত্যনতুন নির্দেশিকা জারি করে এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ উঠেছে
অভিযোগ উঠেছে যে কমিশনের তরফে একবার একটা নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দিনকয়েক পরেই সেটা পালটে যাচ্ছে। আবার নতুন নির্দেশিকা মেনে কাজ করতে একেবারে কম সময় দেওয়া হচ্ছে। ফলে মানুষকে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমনিতে এসআইআর নিয়ে একাধিকবার কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মাসের শুরুতেই তিনি দাবি করেন, আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করবেন না। বরং দরকারে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করবেন। শীর্ষ আদালতের সামনে তুলে ধরবেন যে এসআইআরের শুনানির নামে কীভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। কীভাবে তাঁদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে, তাও সুপ্রিম কোর্টে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হোয়্যাটসঅ্যাপে নির্বাচন কমিশন চলছে। হোয়্যাটসঅ্যাপটা কিনে নিয়েছে কিনা, কে জানে। ডিরেকশন দেওয়ার ক্ষমতা নেই। হোয়্যাটসঅ্যাপে চলছে নির্বাচন কমিশন। দুঃখের সঙ্গে বলছি যে ভ্যানিশ করে দিচ্ছে মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে। আমি বলি, মানুষের অধিকার ভ্যানিশ হলে আপনারাও কিন্তু ভ্যানিশ হয়ে যাবেন। এটুকু মাথায় রাখবেন। সবাই নিজের নামটা দয়া করে তুলবেন। তাতে একটু কষ্ট হলে হবে। কিন্তু নিজের অধিকার রক্ষার লড়াই এটা। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াইয়ে বাঁচতে হবে।’