এসআইআর আবহে রাজ্য জুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সরব বিজেপি। এরই মাঝে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় ‘কারচুপির’ অভিযোগও উঠেছে। বহু বুথে নাকি গত ২৩ বছরে মৃত ভোটারের সংখ্যা ‘শূন্য’। এই সব বিতর্কের মাঝেই এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক বিজেপি। এবার অভিযোগ, এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নাকি তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। অভিযুক্তের নাম শ্রাবন্তী মণ্ডল। বর্তমানে শ্রাবন্তী হাটকলনা পঞ্চায়েতে প্রধান। এই শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ, অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন শ্রাবন্তী। তারপর এই দেশে এক ব্যক্তিকে ‘বাবা বানিয়ে’ বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলিয়েছিলেন তিনি। পরে তৃণমূলের টিকিটে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই করেন এবং জিতে পঞ্চায়েত প্রধানও হন তিনি।
এই আবহে বিজেপির তরফ থেকে সম্প্রতি কালনা মহকুমা শাসকের দফতরে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে। তাঁকে পদচ্যুত করার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে কালনার মুক্তারপুর গ্রামের ৮৭ নম্বর বুথে বিগত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছেন শ্রাবন্তী মণ্ডল ও তাঁর স্বামী তৃণমূল নেতা বনমালী মণ্ডল। শ্রাবন্তী নাকি নিজের এক প্রতিবেশীকে বাবা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নিজের নামও তোলেন। অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রাবন্তী।
তবে বিজেপির অভিযোগ, শ্রাবন্তী মণ্ডলের জাতিগত শংসাপত্র ও জন্মশংসাপত্র অবৈধ। এদিকে শ্রাবন্তীর স্বামী বনমালীর বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ, তিনি নাকি এমন ৪ জনের নামে এনুমারেশন ফর্ম তুলেছেন, যাঁরা বর্তমানে ভারতে বসবাস করেন না। এদিকে বিএলও সেই সব ফর্ম জমা করার জন্য বললেও নাকি বনমালী তা করেননি। যদিও এই পরিপ্রেক্ষিতে শ্রাবন্তীর পালটা যুক্তি, যাঁদের নামে এনুমারেশন ফর্ম তোলা হয়েছে, তাঁরা আত্মীয়।এই গোটা বিতর্কের আবহে বিজেপির জেলা সভাপতি স্মৃতি কণা বসু বলেন, ‘উনি কীভাবে প্রধান হলেন? এসসি সার্টিফিকেট কীভাবে এলে? ওই মহিলা বাংলাদেশি।’ এর জবাবে শ্রাবন্তী বলেন, ‘যাঁরা অভিযোগ করেছে তাঁরা আগে প্রমাণ করুক আমার সমস্ত নথি ভুয়ো। তারপর আমি প্রমাণ করব।’ এদিকে কালনার তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ বলেন, ‘শ্রাবন্তীদের কাছে বৈধ নথি আছে বলেই ভোটে লড়তে পেরেছে। বিজেপির অভিযোগ সঠিক নয়। যদি প্রয়োজন হয় সমস্ত নথি দেখাবে।’
