S Jaishankar visit to Azerbaijan: আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্য জোরদার করার লক্ষ্যে আজারবাইজানের বিদেশমন্ত্রী জেহুন বায়রামভের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শক্তি, পরিবহন, পর্যটন, শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যৌথ অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
আজারবাইজানের বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে ইস্ট-ওয়েস্ট অ্যান্ড নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর, বাকু-তিবিলিসি-কার্স রেলপথ, বাকু বন্দর এবং আলাত মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল-সহ (Alat Free Economic Zone) অন্যান্য শিল্পাঞ্চলগুলির মাধ্যমে তৈরি হওয়া সংযোগ ও বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা নিয়ে দুই মন্ত্রীর মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘ (UN), সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) এবং কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়া (CICA)-র মতো আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বৈশ্বিক অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।
আজারবাইজান বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, আজারবাইজানের বিদেশমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক আলোচনা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শক্তি, পরিবহন, পর্যটন, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নিয়ে কথা বলেছেন। এছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাউথ ককেশাস অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির পদক্ষেপ সম্পর্কেও ভারতীয় মন্ত্রীকে অবহিত করেন বায়রামভ। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলির পুনর্নির্মাণ ও অব্যাহত ল্যান্ডমাইন বিপদের প্রসঙ্গটিও এই আলোচনায় স্থান পায়।
এর আগে দিনের শুরুতেই বাকুতে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরও গভীর করার উপায় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বার্তা প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের কাছে পৌঁছে দেন জয়শঙ্কর। এক্স হ্যান্ডেলে এস জয়শঙ্কর লেখেন, ‘আজ সকালে বাকুতে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আনন্দিত। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছি। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌথ এই প্রয়াসের প্রতি তাঁর ইতিবাচক মনোভাবকে সাধুবাদ জানাই।’

বিদেশ মন্ত্রীর এই সফরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইস্যুতেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে এসেছে আজারবাইজান। বিশেষত ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরের পরে যেভাবে খোলাখুলি পাকিস্তানের সমর্থন করে ভারতের নিন্দা করেছিল আজারবাইজান, তারপর নয়াদিল্লি এবং বাকুর সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকেছিল। দু’দেশের সম্পর্কে এমনিতেই কোনওদিন আহামরি ছিল না। অপারেশন সিঁদুরের পরে মুখ থুবড়ে পড়েছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। তবে পরবর্তীতে ছবিটা কিছুটা পালটাতে থাকে। সম্প্রতি আজারবাইজানে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত অভয় কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের কাছে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেন। সে সময় রাষ্ট্রদূত জানান, দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করতে ভারত সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে, ভারত ও আজারবাইজানের মধ্যে সহস্রাব্দের পুরনো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগ আজকের আধুনিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। সেই সাক্ষাতে বিশকেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের মধ্যে পূর্ববর্তী বৈঠকের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে স্মরণ করা হয়েছিল।