প্রধান বিচারপতি বিআর গভাইয়ের দিকে জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টার নিন্দা করলেন তাঁর মা। ৮৪ বছর বয়সি কমলতাই গভাই এই ঘটনাকে সংবিধানের উপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘটনার নিন্দা জানাই। ভারতীয় সংবিধানে সবাইকে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু লোক আইন নিজের হাতে নিয়ে এমন আচরণ করে যা আপত্তিকর এবং দেশে নৈরাজ্য তৈরি করতে পারে। এ দেশে কারও এটা করার অধিকার নেই। আমি সবাইকে অনুরোধ করব যে আপনাদের যা প্রশ্ন আছে, আপনারা যা বলতে চান, দয়া করে শান্তিপূর্ণভাবে তা তুলে ধরুন।’
কমলতা বলেন, ‘আমাদের আইন হাতে নেওয়া উচিত নয়। আমাদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। সংযম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হবে। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, এটি একটি বিষাক্ত মতাদর্শের অংশ যা ছড়িয়ে পড়ার আগে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এই ধরনের ঘটনা আমাদের সংবিধানকে অপমান করে এবং আমাদের দেশের বদনাম করে। যারা সংবিধান বিরোধী কাজ করবে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বাবাসাহেব আম্বেদকর বলতেন- ‘বাঁচুন এবং বাঁচতে দিন’; এই নীতির উপর ভিত্তি করে আমাদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। সেই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অধিকার কারও নেই। আমি জনগণকে তাদের সমস্যাগুলি শান্তিপূর্ণভাবে এবং সাংবিধানিক উপায়ে সমাধান করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর আদালত চলাকালীন এক আইনজীবী বিচারপতি বিআর গভাইয়ের দিকে জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন। সেই আইনজীবীর অভিযোগ ছিল, বিচারপতি গভাই সনাতন হিন্দু ধর্মের অবমাননা করেছেন। আইনজীবীর ছুড়ে মারা জুতোটি অবশ্য বিচারপতির বেঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তার আগেই উপস্থিত অন্যান্যরা সেটি ধরে ফেলেন। পরে প্রবীণ ওই আইনজীবীকে আদালতকক্ষ থেকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি ওই বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন। তবে প্রধান বিচারপতি বিআর গভাই এই ঘটনায় বিচলিত হননি। পাশাপাশি আদালতের কাউকে এর জন্য বিভ্রান্ত হতেও বারণ করেছিলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি বিআর গভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন নরেন্দ্র মোদী। পরে এই ঘটনার নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী এক্স বার্তায় লিখেছিলেন, সমস্ত ভারতবাসী এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ।
