India-China Meeting: গালওয়ান সংঘর্ষের ক্ষত এখনও পুরোপুরি ম্লান হয়ে যায়নি ভারতের স্মৃতি থেকে। তবে পরির্তনশীল এবং অস্থিতিশীল এই বিশ্বে অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে যেতে চিনের সঙ্গে ‘ব্যবসায়িক সম্পর্ক’ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এই আবহে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির করতে বৈঠক করল ভারত ও চিন। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৬-১৭ এপ্রিল প্রথম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) দ্বিপাক্ষিক সংলাপে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও চিন।
২০২৪ সালে পূর্ব লাদাখে সামরিক অচলাবস্থার সমাধানে দুই দেশ হাত মিলিয়েছিল। এরপরও অবশ্য অরুণাচলের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ, চিনের দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রশাসনিক ব্যবস্থা বদলের মতো পদক্ষেপ করেছে চিন। তা নিয়ে ভারতও তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে চিনের ব্যবসা বেড়েছে। সীমান্তে নতুন করে অশান্তি তৈরি হয়নি। বিমান চলাচল শুরু হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে দেখা হচ্ছে এসসিও-র অধীনে আয়োজিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটিকে।
এই বৈঠক নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসসিও-তে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সংস্থার ভবিষ্যত রূপরেখা সম্পর্কে নিজেদের মতামত আদানপ্রদান করেছে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। ভারত ও চিন এসসিও সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে বিদেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সময়ে, দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, যোগাযোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। এসসিও কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে সীমান্ত বিরোধের সমাধান হওয়ার পর থেকে উভয় দেশই ব্রিকস এবং এসসিও-র মতো আন্তর্জাতিক এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে একসাথে কাজ করছে। গত বছর এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিন গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিকে ভারতের চলতি ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে বেজিং। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই ১৪-১৫ মে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে ভারত সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরে সেপ্টেম্বরে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতে আসতে পারেন।