তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এবং তার দল টিভিকে-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ করেছেন ডিএমকে-র প্রবীণ নেত্রী ও তিরুচেন্দুরের বিধায়ক অনিতা রাধাকৃষ্ণন। রোববার (১৭ মে) তিনি দাবি করেছেন যে, এই প্রশাসন ছয় মাসও টিকবে না।
অনিতা জোর দিয়ে বলেন যে, ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন—যিনি এপ্রিলের নির্বাচনে বিজয় ও তার টিভিকে-র বিপুল জয়ের আগে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তিনি দ্রুতই ফিরে আসবেন।দক্ষিণ তামিলনাড়ুর একটি পার্টি ইভেন্টে, অনিতা রাধাকৃষ্ণান আধব অর্জুনকেও চ্যালেঞ্জ করে বসেন। আধব ক্ষমতাসীন বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজগামের একজন সিনিয়র নেতা, যিনি ভিলিভাক্কাম আসনে জয়ী হয়েছেন। তাকে সেখান থেকে পদত্যাগ করতে এবং তিরুচেন্দুরে তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চ্যালেঞ্জ জানান অনিতা। অনিতা ঘোষণা করেন, ‘এই সরকার আর মাত্র চার মাস টিকবে। আধব অর্জুন নামে একজন আছেন। সাহস থাকলে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করুন, আমিও তাই করব। চলুন তিরুচেন্দুরে মুখোমুখি হই। এটা আমাদের শহর। আমরা যে কাউকেই পরাজিত করব।’
তিরুচেন্দুর আসনটি ২৫ বছর ধরে অনিতা রাধাকৃষ্ণনের শক্ত ঘাঁটি; তিনি ২০০১ সালে ডিএমকে-র প্রধান দ্রাবিড় প্রতিদ্বন্দ্বী, অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগামের হয়ে প্রথমবার এই আসনটি জেতেন এবং ২০০৯ সালে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগামের হয়ে আসনটি ধরে রাখেন।
ভি. এস. বাবুর কাছে তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন যখন তার শক্ত ঘাঁটি কোলাথুর হারান, তখনও রাধাকৃষ্ণন তার পক্ষ সমর্থন করেন। ভিএস বাবু ছিলেন ডিএমকে-র একজন অসন্তুষ্ট সাবেক নেতা, যিনি বিজয়ের টিভিকে-তে যোগ দিয়ে তার সাবেক বসকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন।

‘থালাইভার’ই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। চার-ছয় মাসের মধ্যে আমাদের নেতা স্ট্যালিন মুখ্যমন্ত্রী হবেন,’ তিনি বলেন।
এখন পর্যন্ত বিজয়ের কার্যালয়, টিভিকে বা অর্জুন কেউই এই মন্তব্যের জবাব দেয়নি।
টিভিকে এবং ডিএমকে-র মধ্যে ক্রমবর্ধমান তিক্ত রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেই এই মন্তব্যগুলো এসেছে।
বিজয়ের নির্বাচনী জয় ছিল কয়েক দশকের মধ্যে তামিলনাড়ুর অন্যতম বড় রাজনৈতিক অঘটন। টিভিকে রাজ্যের ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতেই জয়লাভ করে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে ছিল তারা। এর মধ্য দিয়ে এটি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র ৬২ বছরের পালাক্রমে জয়ের ধারাকেও থামিয়ে দিয়েছে।
এরপর এক সপ্তাহ নাটকীয়তার পর অবশেষে কংগ্রেস, দুটি বাম দল এবং বিদুতলাই চিরুথাইগাল কাচ্চি-র আসনের মাধ্যমে ১০ আসনের ব্যবধানটি পূরণ করে বিজয়ের দল টিভিকে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই তিনটি দলই—যাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে দেখা হতো—পূর্বে ডিএমকে-র সঙ্গে ছিল।সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পার হওয়ার পর, বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, যা তার সিনেমা থেকে রাজনীতিতে আসার যাত্রাকে পূর্ণতা দেয়। এরপর দ্বিতীয় দফার নাটকীয়তায় তিনি আস্থা ভোটে ১৪৪-২২ ভোটে সহজেই জয়ী হন।
এরপর থেকে টিভিকে নেতাকে শাসনব্যবস্থা, নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডিএমকে-র পক্ষ থেকে ক্রমাগত আক্রমণের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন দল তাদের সরকার অস্থিতিশীল—বিরোধীদের এমন বারবার করা দাবি খারিজ করে দিয়েছে।
এছাড়া বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডিএমকে নেতা স্ট্যালিনের সঙ্গে দেখাও করেন।