Sujit Bose: একটা সময় ছিল রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Basu)-র ‘শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের’ দুর্গাপুজো ছিল কলকাতার অন্যতম সেরা পুজো। মহালয়ার আগে থেকে ঠাকুর দেখার জন্য উপচে পড়ত ভিড়। কিন্তু এবার সব অতীত। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির (ED) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। আপাতত তিনি সংশোধনাগারে। পুজোর আগে ঘরে ফেরার সামান্য চেষ্টাটুকুও বৃথা গেল। সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ। ফলত, এবারের দুর্গা পুজোয় জেলেই কাটাতে হবে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
পুরনিয়োগ দুর্নীতি ও আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গত ৫ মাস জেলেই কেটেছে সুজিত বসুর। এবার পুজোর আগে কী মিলবে জামিন? এই মর্মেই মঙ্গলবার তাঁর জামিন ভাগ্য নির্ধারণে মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সকাল ১১ টায় জামিন মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ঘোষ। আজ শুনানি চলার সময় বিচারপতি আলাদা করে জানাননি কেন জামিন খারিজ করা হয়েছে। এর আগে এই মামলা ছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে গোটা শুনানির শেষে বিচারপতি অভিযোগ করেন, সুজিত বসুর আইনজীবীরা গিয়ে বিচারপতির কক্ষ থেকে একটি ফাইল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই বিচারপতি এই মামলা ছেড়ে দেন। বিচারপতি মামলা ছাড়ার পর অস্বস্তি বাড়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর। এরপরই এই মামলা যায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে।
কলকাতা হাইকোর্টে ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেছেন, পুরনিয়োগে ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি হয়েছে। চাকরির জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। সুজিত বসুর অ্যাকাউন্টে ৮.৮ কোটি টাকা মিলেছে বলেও দাবি করে ইডি। উচ্চ আদালতে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছিল, সুজিত বসুর পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও মিলেছে কয়েক কোটি টাকা। বস্তুত, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুর আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল মিডলম্যান অয়ন শীলকে। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে ইডি জানিয়েছিল, অয়ন শীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পৌরসভায় বিভিন্ন সময় ১৫২ জনের চাকরির সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু। প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করে জানান, ‘পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপরেও তাঁর মক্কেলকে জেলে আটকে রাখার বিষয়টি অনৈতিক। ইডি-র আইনজীবী এই গ্রেফতারি যুক্তিসঙ্গত বলে দাবি করতে পারে না।’ তাঁর আরও সওয়াল, ‘২০১৬ সালের পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে সুজিতকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে দেখিয়েছে ইডি। অথচ সিবিআই এই মামলায় ২০২৪-২৫ সালে যে চার্জশিট দিয়েছিল, তাতে সুজিতের নামই ছিল না।’ তারপরে সুজিত বসুর আইনজীবীর সওয়াল, ‘আমার মক্কেলের বাড়ি কলকাতায়। তদন্তের প্রয়োজনে যখন খুশি তাঁকে ডাকা যায়। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে চান।’

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ১১ মে গ্রেফতার হন সুজিত বসু। ইডির হাতে গ্রেফতার হন প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী। সুজিত বসু বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে ১৫২ চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইডি তদন্তে। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন প্রভাব খাটিয়ে সেই সময় ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে। ডাক পরে তাঁর ছেলেরও। পরিবারের আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকার হদিশ পায় বলে কলকাতা হাইকোর্টে দাবি করে ইডি। দুর্নীতির টাকা হোটেল, রেস্তোরাঁ, প্রোমোটিং, শেয়ারবাজার খাটানোরও অভিযোগ ওঠে প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে।