‘পাকিস্তানকে এমন জবাব দেওয়া হবে যে গোটা ইতিহাস-ভূগোল বদলে যাবে।’ গুজরাটের কচ্ছের সীমান্তবর্তী স্যর ক্রিক এলাকায় সামরিক কাঠামো তৈরি নিয়ে ইসলামাবাদকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। জম্মু ও কাশ্মীর ছাড়া এক মাত্র স্যর ক্রিক-ই সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে ভারত এবং পাকিস্তানের।
সিন্ধু নদের ব-দ্বীপে তৈরি হয়েছে প্রায় ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ স্যর ক্রিক। এই অঞ্চলটি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে অবস্থিত একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড। কচ্ছের রণের পশ্চিমে অবস্থিত নালা এবং জলাভূমি এলাকা পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ থেকে আলাদা করে রেখেছে গুজরাটকে। এই অঞ্চলে নজরদারির দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফের বিশেষ বাহিনী ‘ক্রিক ক্রোকোডাইল।’ ১৯৯৯ সালে স্যর ক্রিক এলাকাতেই অনুপ্রবেশকারী পাক নজরদার বিমানকে ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। ওই ঘটনায় ১৬ জন পাকসেনা নিহত হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার গুজরাটের এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ‘স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও, স্যর ক্রিক এলাকার সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চলছে। ভারত আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ত্রুটি রয়েছে; তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী সম্প্রতি স্যর ক্রিক সংলগ্ন এলাকায় যেভাবে সামরিক পরিকাঠামো সম্প্রসারণ করেছে তা থেকেই তাদের আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয় যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বিএসএফ যৌথভাবে এবং সতর্কতার সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রক্ষা করছে। যদি স্যর ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের দিক থেকে কোনও দুঃসাহসিক অভিযান চালানো হয়, তাহলে এমন নির্ণায়ক জবাব দেওয়া হবে যে ইতিহাস এবং ভূগোল উভয়ই বদলে যাবে। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে, ভারতীয় সেনাবাহিনী লাহোরে পৌঁছানোর ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল। আজ ২০২৫ সালে, পাকিস্তানের মনে রাখা উচিত যে করাচি যাওয়ার একটি পথ এই নালার মধ্য দিয়ে গিয়েছে।’ এরপরেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টার ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রেকর্ড সময়ের মধ্যে অপারেশন সিঁদুর অভিযান কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, কেবল অস্ত্রই যথেষ্ট নয়, সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা, ঐক্য এবং সংকল্প কঠিন পরিস্থিতিতে বিজয় নিশ্চিত করে।’ তিনি আরও জানান, ‘আজকের ভারত বলে যে সন্ত্রাসবাদ হোক বা অন্য কোনও সমস্যা, আমাদের তা মোকাবেলা এবং পরাজিত করার ক্ষমতা আছে। অপারেশন সিঁদুরের সময়, পাকিস্তান লেহ থেকে স্যর ক্রিক পর্যন্ত ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লঙ্ঘনের ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সকলের সামনে নিয়ে আসে এবং বিশ্বকে বার্তা দেয় যে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী যখন-তখন, যেখানে-সেখানে এবং যেভাবে ইচ্ছা পাকিস্তানের উপর ভারী আঘাত করতে পারে।’