পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের মুখে রাম প্রসাদ বিসমিলের ‘সরফরোশি কি তামান্না’ স্লোগান

Spread the love

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-তে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও থামছে না বিক্ষোভ। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ তুলে হাজার হাজার মানুষ এখনও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত তিন দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে এবং ২০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবী রাম প্রসাদ বিসমিলের বিখ্যাত কবিতার লাইন- সরফরোশি কি তামান্না আব হামারে দিল মে হ্যায়, দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-এ-কাতিল মে হ্যায়— এখন পিওকে-র আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রতিবাদের স্লোগানে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নারী, শিশু এবং প্রবীণরাও এই স্লোগান তুলে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামের আরেক ঐতিহাসিক স্লোগান – ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনিত হতেও শোনা যাচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, পিওকে-র রাওয়ালাকোট এলাকায় আন্দোলনের ২৮তম দিনে কয়েকশো মানুষ বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। সেখানে তাঁরা একযোগে ‘সরফরোশি কি তামান্না’ স্লোগান তোলেন। ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলেও, সেগুলি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করছে। গুলিবর্ষণ এবং বলপ্রয়োগে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উসমান নাজির, যিনি জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উমর নাজিরের ভাই। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে প্রশাসন।

বর্তমানে স্থানীয় সংস্থা জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনিক নির্বাচনকে ঘিরে কারচুপির অভিযোগ, বিরোধী মত দমনে জোরপূর্বক নিখোঁজ করার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদেও সংগঠনটি সরব হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা চলছে।

গত মাস থেকে পিওকে-তে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনের উদাসীনতা, রাজনৈতিক বৈষম্য এবং সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার। এসব ইস্যুতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

এদিকে, ভারতও পিওকে-র পরিস্থিতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচন আসলে ইসলামাবাদের অবৈধ দখলদারিকে আড়াল করার একটি প্রচেষ্টা। ভারতের দাবি, ওই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সেই বাস্তবতাকে ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতিতে পিওকে-র ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে অঞ্চলটিতে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *