Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিছিলে হাঁটলে, দু পাশে হাঁটতেন তাঁরা। সাংবাদিক বৈঠক হলে থাকতেন সামনের সারিতে। মঞ্চে, প্রচারে সর্বত্র যে নেতাদের দেখা যেত, মাসখানেকের মধ্যেই তাঁরা একে একে ছেড়েছেন কালীঘাটের পথ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে তৈরি হয় তৃণমূলের কমিটি। আর এরই মধ্যে দলের ভাঙনের আবহে ঘর সামলাতে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খানদের বহিষ্কার করল কালীঘাট তৃণমূল। গতকাল, সোমবার রাতে ফিরহাদ, অরূপ-সহ একগুচ্ছ নেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। সেই শোকজের উত্তর পাওয়ার আগেই কালবিলম্ব না করে তাঁদের বহিষ্কার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পদক্ষেপে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন, স্নেহাশিস চক্রবর্তীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। ফিরহাদরা ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ‘আসল’ তৃণমূলের কমিটিতেও অনেকেই রয়েছেন। এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা। জাভেদ খানও দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন। ঘটনাক্রমে তাঁদের সকলেই এই মুহূর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূলে। আরও নতুন নাম আগামী দিনে যুক্ত হতে পারে! সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন ঋতব্রত। এই ‘আসল’ তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠকও হয়েছে।
সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে ঋতব্রত শিবির নতুন জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণা করে। সেই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও স্থান রাখা হয়নি। দলের চেয়ারপার্সন পদে অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করা হয় এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতাকে। এই বৈঠকের পরই রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, তাঁদের পাশে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা। সেই অনুষ্ঠানে অরূপ রায়, সাবিনা ইয়াসমিন এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তীর উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল। এরপরেই সোমবার রাতে একগুচ্ছ নেতাকে শোকজ নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কালীঘাট তৃণমূল। আজ, মঙ্গলবার দুপুরেই কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ তাঁদের বহিষ্কার করা হল। প্রাথমিকভাবে বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তী।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এখন আর গোপন নেই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল সংগঠন, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত বিকল্প সংগঠন- এই দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। দলের প্রতীক, সংগঠনের বৈধতা এবং নেতৃত্বের লড়াই- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।

আদালতের দ্বারস্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
অন্যদিকে, দলের ভাঙনের আবহে বিদেশ যেতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের চিকিৎসার জন্য এক সপ্তাহের জন্য বিদেশে যাওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয়ে অনুমতি চেয়ে এদিন কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই আবেদন জানানো হয়েছে।
কয়েক বছর আগে মুর্শিদাবাদে দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দুর্ঘটনায় চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর থেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। প্রথমে দেশের একাধিক হাসপাতাল এবং পরে বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করান তিনি। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পর বঙ্গে বদলেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একাধিক মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিষেকের। বিধানসভায় সই কাণ্ড থেকে ভোটপ্রচারে গিয়ে উসকানিমুলক মন্তব্য, বর্তমানে সিআইডি রাডারে রয়েছেন তিনি। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যে রক্ষাকবচ পেয়েছেন সাংসদ। তবে তাঁর বিদেশ যাত্রার উপর রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা। এহেন পরিস্থিতিতে এদিন ফের উচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সপ্তাহের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আর্জি জানিয়েই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই আবেদন জানিয়েছেন। এখন দেখার এই মামলায় আদালত অভিষেককে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয় কিনা? জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।