বন্দি বিনিময়ে ইজরায়েলে উল্লাস! রেড কার্পেটে ট্রাম্পকে বিশেষ ‘ধন্যবাদ’

Spread the love

ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া শুরুর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়া সফর শুরু করেছেন। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লাল গালিচায় স্বাগত জানিয়েছে ইজরায়েল। বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরগোজ, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। এদিকে, ইজরায়েলের তেল আবিবের হোস্টেজ স্কয়ারে বন্দিদের মুক্তির খবর শোনামাত্র হাজার হাজার জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন। সেই সঙ্গে তাঁরা বিশেষ ব্যানারের মাধ্যমে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।

জানা গিয়েছে, সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিবে বিমানবন্দরে অবতরণের পর জেরুজালেমের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। সেখানে তিনি যাবেন ইজরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে। সেখানে তিনি ভাষণ দেবেন এবং বন্দীদের কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। অন্যদিকে, তেল আবিব-সহ ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বড় স্ক্রিনে সরাসরি সম্প্রচার দেখছিলেন। বিশেষ করে তেল আবিবের হোস্টেজ স্কোয়ারে ভিড় জমেছিল উপচে পড়া। মুক্তিপ্রাপ্ত পণবন্দিদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। কেউ কেউ ইজরায়েলের পতাকা ও তাতে বাঁধা হলুদ ফিতা উঁচিয়ে ধরেন, যা পণবন্দিদের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। অনেকেই হাতে প্ল্যাকার্ডে প্রিয়জনদের মুখ নিয়ে কেঁদে ফেলেন, কেউ বুক চাপড়ে চিৎকার করে বলেন, ‘বাড়ি ফিরিয়ে আনো এখনই।’ ইজরায়েলের অধিকার কর্মীরা তেল আবিবের একটি সৈকতে জড়ো হয়েছেন। সেখানে তাঁরা বন্দিদের স্বাগত ও ট্রাম্পকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা। ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে বিশেষ ব্যানার প্রদশিত হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসেই আকাশ থেকে তা দেখতে পান। গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্য ইজরায়েলের জনসাধারণ তাঁকে এইভাবেই ধন্যবাদ জানিয়েছে। এদিকে, হোস্টেজ স্কোয়ারে ট্রাম্প স্ক্রিনে আসলে উল্লাস ফেটে পড়েন সাধারণ নাগরিকরা।

নোবেল না জুটলেও ইজরায়েল দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।ট্রাম্পের সফরের ঠিক প্রাক মুহূর্তে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরগোজ জানান, দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করবে। ২ বছর ধরে চলা হামাস-ইজরায়েল যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হামাসের হাতে বন্দি মুক্তির সাফল্যের জন্য ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের মেডেল অফ অনার দিয়ে সম্মানীত করা হবে ট্রাম্পকে। প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্পের অক্লান্ত চেষ্টায় প্রেসিডেন্ট শুধু আমাদের দেশের প্রিয় মানুষগুলিকে ফিরিয়ে আনছেন না, তিনি মধ্য-পূর্ব অঞ্চলে এক নতুন যুগের ভিত রচনা করেছেন। নিরাপত্তা, সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের সত্যিকারের আশা জাগিয়েছেন ট্রাম্প।’ এদিকে হামাস জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় মোট ২০ জন জীবিত পণবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং এর বিনিময়ে ইজরায়েল প্রায় ১,৯০০-রও বেশি প্যালেস্তিনীয় বন্দিকে মুক্ত করবে। এই ঘোষণার পর থেকেই ইজরায়েল জুড়ে অপেক্ষার আবহ তৈরি হয়েছিল, এবং সোমবার যখন টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে খবর প্রচারিত হয় যে পণবন্দিরা রেড ক্রসের হাতে পৌঁছেছেন, তখন পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের ঢেউ বয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *