লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বাড়ছে ইসরাইলি হামলা। নাবাতিয়েহ, টাইর ও বেকা উপত্যকাজুড়ে ড্রোন ও বিমান হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে লেবাননের নাবাতিয়েহে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন দুই প্রবাসী বাংলাদেশি।
একই সময়ে ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য লেবানন-ইসরাইল বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে।দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং ভালুকা গ্রামের শফিকুল ইসলাম। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে একটি ভবনে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছিলেন তারা। এলাকাবাসীর কাছে রুটি পৌঁছে দিতে যাওয়া পৌরসভার একটি র্যাপিড গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হলে বিস্ফোরণে গাড়িটি ধ্বংস হয় এবং পাশের ভবনে থাকা দুই বাংলাদেশি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের আদশিত ও কুসাইবা, বিনতে জবেইলের কাফরা এবং পশ্চিম বেকার মাশগারায় বিমান হামলা হয়।
টাইরের শ্রিফা শহরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়, সেখানেও বেশ কয়েকজন হতাহত হন। পরে দুয়েইর শহরে আরেকটি ড্রোন হামলায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
এদিকে হিজবুল্লাহও ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক পাল্টা হামলার দাবি করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আল-বায়াদা এলাকায় জড়ো হওয়া ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আল-আদাইসায় ইসরাইলি আর্টিলারি অবস্থানেও আঘাত হানার দাবি করে তারা।
এছাড়া আল-বায়াদা-নাকৌরা সড়কে বুলডোজারের পাশে অবস্থান নেয়া ইসরাইলি সেনা ও যানবাহনের ওপর গোলাবর্ষণের কথাও জানায় গোষ্ঠীটি। টাইর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার তিন সপ্তাহ পরও দক্ষিণ লেবাননে মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বাড়ছে।
কূটনৈতিক পর্যায়েও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে ইসরাইলের হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে লেবাননের সেনাপ্রধান জার্মানির সঙ্গে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরুতে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৮৬৯ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৭৩০ জন আহত হয়েছেন।