সপ্তমীর ভোররাতে দেবী দর্শনে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১২ জন

Spread the love

উৎসবের আবহে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মধ্যপ্রদেশে। সপ্তমীর রাতে দেবী দর্শনে যাওয়ার পথে প্রাণ হারালেন ১২ জন। আহত আরও ২৯। গ্বালিয়রের শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে আচমকাই ভক্তদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে একটি ধানবোঝাই ট্রাক। তার পরে মন্দিরের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা মারে গাড়িটি। ভেঙে পড়ে ফটকের একাংশের দেওয়াল। তার নীচে চাপা পড়েন কয়েক জন। রবিবার ভোররাতের এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাকটি? প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটির আশঙ্কা করছে পুলিশ। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

ব্যারিকেড ভেঙে ভক্তদের ভিড়ে ট্রাক

পুলিশ সূত্রে খবর, সপ্তমী উপলক্ষে শনিবার রাত থেকেই শীতলা মাতা মন্দিরে ভক্তদের ভিড় জমতে শুরু করেছিল। গ্বালিয়র এবং আশপাশের জেলা থেকে বহু মানুষ এসেছিলেন পুজো দিতে। ভিড়ের কথা মাথায় রেখে মন্দিরের কাছে ভারী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। পুলিশ ব্যারিকেডও বসিয়েছিল।

রাত প্রায় দেড়টা। চিনোরের দিক থেকে ধানবোঝাই ট্রাকটি মন্দিরের পথে আসছিল। ব্যারিকেডের কাছে পুলিশ সেটিকে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ঢালু রাস্তায় আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। তার পরেই ট্রাকটি রাস্তার পাশের দোকান এবং ভক্তদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। ব্যারিকেড ভেঙে সোজা মন্দিরের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা মারে গাড়িটি।

ভেঙে পড়ল মন্দিরের ফটকের দেওয়াল

ট্রাকের ধাক্কায় মন্দিরের প্রবেশপথের একাংশ ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে যান কয়েক জন। রাস্তার পাশে থাকা পাঁচ থেকে ছটি প্রসাদের দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অনেকে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। ভেঙে পড়া দেওয়ালের নীচ থেকে আহতদের বের করে আনা হয়। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় মোট ৪১ জনের মতো মানুষ ট্রাকের ধাক্কায় বা দুর্ঘটনার জেরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৯ জন। কয়েক জনের আঘাত গুরুতর। মৃতেরা গ্বালিয়র এবং আশপাশের জেলার বাসিন্দা।

যান্ত্রিক ত্রুটির আশঙ্কা

গ্বালিয়রের পুলিশ সুপার ধর্মবীর যাদব জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ট্রাকের যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি সামনে এসেছে। সেই কারণেই চালক গাড়ির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাকতে পারেন বলে অনুমান। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঠিক কী কারণে ট্রাকটি ঢালু রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলাশাসক রুচিকা চৌহান জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেড ক্রসের তহবিল থেকে তাঁদের চিকিৎসার খরচ মেটানো হচ্ছে। আহতদের যাতে চিকিৎসায় কোনও সমস্যা না হয়, সে দিকেও নজর রাখছে প্রশাসন।ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দির চত্বরে এমন দুর্ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও। ভারী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ট্রাকটি কী ভাবে ভক্তদের কাছে পৌঁছল, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, রাস্তার ঢাল এবং ব্যারিকেডের কার্যকারিতা, সব দিকই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আপাতত স্বজন হারানোর শোক আর আহতদের সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় গ্বালিয়র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *