বহুচর্চিত নীথারি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিচিত নাম সুরেন্দ্র কোলিকে শুক্রবার হরিদ্বারে একটি চায়ের দোকানের ভিতর ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভূপতওয়ালা এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে হরিদ্বারের ওই এলাকায় চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন কোলি। স্থানীয় একটি ঝুপড়িতে থাকতেন তিনি। শুক্রবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চায়ের দোকানের ভিতরে তাঁকে দড়ির ফাঁসে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয়।
হরিদ্বার সিটি কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কুন্দন সিং রানা জানিয়েছেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আলমোড়া জেলার ভিকিয়াসাইনের বাসিন্দা সুরেন্দ্র কোলির পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়েছে।
নীথারি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সুরেন্দ্র কোলির নাম জড়িয়ে পড়ে ২০০৬ সালে। উত্তরপ্রদেশের নয়ডার নীথারি এলাকায় একাধিক শিশু ও তরুণী নিখোঁজ হওয়ার পর ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়। মনিন্দর সিং পন্ধেরের বাড়ির পিছনের নালা ও আশপাশের এলাকা থেকে একাধিক কঙ্কাল ও দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ওই বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুরেন্দ্র কোলি। তদন্তের পর একাধিক খুন, অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়।
এই মামলাগুলির দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় একসময় কোলিকে একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কয়েকটি মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মামলাগুলির অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। ২০২৩ সালে এলাহাবাদ হাই কোর্ট নীথারি-সংক্রান্ত ১২টি মামলায় কোলিকে খালাস দেয়। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টও ওই খালাসের বিরুদ্ধে করা আবেদনগুলি খারিজ করে দেয়। ফলে সেই মামলাগুলিতে তাঁর খালাস বহাল থাকে।

এর পরও একটি মামলায় তাঁর সাজা বহাল ছিল। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সেই শেষ মামলাতেও তাঁর দণ্ড বাতিল করে দেয়। শীর্ষ আদালত জানায়, একই ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে অন্য মামলাগুলিতে যখন খালাস দেওয়া হয়েছে, তখন একই প্রমাণের ওপর একটি মামলায় তাঁর সাজা বহাল রাখা যায় না। আদালত তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ফলে মৃত্যুর সময় সুরেন্দ্র কোলি আর কোনও মামলায় দণ্ডিত অবস্থায় ছিলেন না। নীথারি-সংক্রান্ত তাঁর শেষ মামলাতেও ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে খালাস দিয়েছিল।
এখন তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে তদন্ত করছে হরিদ্বার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর কোনও সমস্যা ছিল কি না এবং ঘটনাস্থলে অন্য কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে।