Ghanaian witch doctor: বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে থামানো সহজ হবে না, এ কথা ভালোভাবেই জানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭৩ নম্বরে থাকা ঘানা। তাই শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচকে সামনে রেখে এবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে এক অদ্ভুত দাবি।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনকে নির্বিষ করতে ঘানা তাদের বিখ্যাত ‘ওঝা’ কালা জাদুবিদ্যা প্রয়োগ করছেন বলে জানা গিয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম নানা কোয়াকু বনসাম, যাকে ঘানার কিছু মহলে ‘ডেভিল অফ ওয়েডনেস ডে’ নামেও ডাকা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘানা শিবির মনে করছে, তাদের নক আউট পর্বে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ইংল্যান্ড অধিনায়ক। মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপের ম্যাচে ইংল্যান্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে চলেছে আফ্রিকার দেশটি। ইংল্যান্ড ম্যাচটি জিতলেই নক আউট নিশ্চিত। অন্যদিকে, ঘানার সামনে নক আউটে ওঠার সুযোগ রয়েছে। এবং তা তারা কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না। আর সেই কারণেই নাকি তারা অতিপ্রাকৃতিক বিষয়ের উপর আস্থা রাখছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, অতীতে ২০১৪ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার ঘটনার পরও নানা কোয়াকু বনসামের নাম নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। এবারও সেই একই ব্যক্তিকে ঘিরে হ্যারি কেনকে থামানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘানা শিবির বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। এদিকে, একটি প্রখ্যাত ইংরেজি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, নানা কোয়াকু বলেছেন, তিনি হ্যারি কেনের উপর জাদুবিদ্যা প্রয়োগ করবেন। শুধু তাই নয়, রীতিমতো দম্ভের সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘২০১৪ বিশ্বকাপে পর্তুগালের মুখোমুখি হয়েছিল ঘানা। সেই ম্যাচে পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর উপর জাদুবিদ্যা প্রয়োগ করেছিলাম। ওঁর হাঁটুর চোটের প্রধান কারণ ছিল এই জাদু। এবার আমি হ্যারি কেনের উপর জাদুবিদ্যা প্রয়োগ করব। আমি আগেও দেখিয়েছি, কী করতে পারি। হ্যারি কেনকে থামাতে আমাকে কী করতে হবে, সেটাও আমার জানা আছে।’
তবে ঘানার ওঝা এও জানিয়েছেন, তিনি হ্যারি কেনের কোনওরকম গুরুতর চোটের কামনা করবেন না। তাঁর কথায়, ‘আমার দেশের বিরুদ্ধে ওঁকে থামানোর জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই জাদুবিদ্যা প্রয়োগ করব। আমি এমনভাবে কাজ করব, যাতে আমার দেশ সুবিধা পায়। এর বাইরে কিছু নয়। আমার অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক যেন কোনও গুরুতর চোট না পান।’ আসলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হ্যারি কেনের দুরন্ত পারফরম্যান্সই ঘানার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই ওঝার দ্বারস্থ হতে চলেছে তারা। নানা কোয়াকু আরও বলেছেন, ‘এই চোট কোনও চিকিৎসকই সারাতে পারবেন না। কী কারণে চোট হচ্ছে, সেটাও বোঝা যাবে না। এটা পুরোটাই আধ্যাত্মিক। হয়তো আজ হাঁটুতে ব্যথা করবে। কাল হয়তো উরুতে ব্যথা করবে। পরেরদিন হয়তো অন্য কোথাও। এভাবেই চোট ঘুরেফিরে বেরাবে গোটা শরীরে।’

অন্যদিকে, ঘানার হয়ে মাঠে নামার কথা থাকা এই ম্যাচে কার্লোস কুইরোজের দল প্রথম ম্যাচে পানামার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত একটি পয়েন্ট পেলেই নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে তাদের জন্য। এদিকে, ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল এই ধরনের আলোচনায় গুরুত্ব না দিলেও, দলের রক্ষণভাগে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, যাতে গোল হজমের ঝুঁকি কমানো যায়।