FlyDubai Indian Pilot talks to PM Modi।রক্তাক্ত অবস্থাতেও হার মানেননি! মোদীকে ফোনে কী বললেন ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট স্মিত

Spread the love

মাঝ আকাশে ভয়াবহ হামলা। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে বড় বিপদ এড়ালেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। তাঁর সাহসিকতার কথা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এ বার সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবারের সেই ফোনালাপে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান স্মিত। সেই মুহূর্তে কী ভাবে তিনি নিজেকে সামলেছিলেন, কী তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল, সে কথাও প্রধানমন্ত্রীকে জানান তিনি। মোদীকে তিনি বলেন, সেই ঘটনার সময় তিনি হনুমান চালিসা পড়ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘হনুমানজি আমাকে শক্তি প্রদান করেছিলেন।’

বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিব যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমান। মাঝ আকাশে আচমকাই বিমানের ককপিটে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সহ পাইলট স্মিতের উপর হামলা করেন। গুরুতর চোট পান ভারতীয় পাইলট। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর পর বিমানের যাত্রী এবং কেবিন ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

ঘটনার পর থেকেই স্মিতের সাহসিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী মোদী, সকলেই তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মোদী আগেই বলেছিলেন, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও স্মিতের উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহস বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করেছে। বৃহস্পতিবার তিনি স্মিতের বাবা মা এবং স্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেয় ভারতীয় দূতাবাসগুলিও।

শুক্রবার সরাসরি স্মিতের সঙ্গেই কথা বলেন মোদী। সেই কথোপকথনে পাইলট নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। হামলার সময় কী ঘটেছিল এবং সেই চরম মুহূর্তে কী তাঁকে শক্তি জুগিয়েছিল, তা জানান তিনি। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মিত নিজের দায়িত্ববোধ এবং বিমানে থাকা মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সামনে রেখেছিলেন। পরে মোদীর প্রশংসার জবাবে স্মিতও জানিয়েছিলেন, তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর কাছে বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনায় স্মিতের দীর্ঘ উড়ান অভিজ্ঞতার কথাও সামনে এসেছে। তিনি বাণিজ্যিক বিমান চালাচ্ছেন ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে। প্রায় ৯৭৫০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। বোয়িং ৭৩৭ বিমান চালানোরও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

এখন চিকিৎসাধীন স্মিত। হামলার সময় পাওয়া গুরুতর আঘাতের পর তাবুকে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তাঁকে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে। পরিবারও তাঁর পাশে রয়েছে।মাঝ আকাশে যে পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনার দিকে যেতে পারত, তা শেষ পর্যন্ত এড়ানো সম্ভব হয়েছে পাইলট, কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদের তৎপরতায়। আর সেই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর এখন শুধু নিজের দেশের নয়, গোটা বিশ্বের আলোচনায়। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর বলা কথাও ফের মনে করিয়ে দিল, আতঙ্কের সেই মুহূর্তেও দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *