Chorbagan Stampede Update। ‘চোখের সামনে মায়ের মৃত্যু দেখেছি, আমিও হয়ত বাঁচতাম না’

Spread the love

উৎসবের আলো নিভে গেল মুহূর্তে। চার দিকে মানুষের চিৎকার। কেউ মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন, কেউ ভিড়ের চাপে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আর সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই চোখের সামনে মাকে হারালেন ২৫ বছরের সোনু পাল। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শহরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে মণ্ডপের সরু প্রবেশপথ, পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং বৃষ্টির মধ্যে আচমকা ভিড় বেড়ে যাওয়ার কথা। কী ভাবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

‘আমিও হয়তো বাঁচতাম না’

কুমোরটুলির বাসিন্দা সোনু ওই দিন মায়ের সঙ্গে চোরবাগানের পুজো দেখতে গিয়েছিলেন। আচমকাই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে অনেকে মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। বাইরে অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। ভিড়ের চাপ সামলাতে না পেরে অনেকে একের পর এক পড়ে যান।

সোনু জানিয়েছেন, তিনিও ভিড়ের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন। কোনও রকমে নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়ান। তার পর মাকে খুঁজতে গিয়ে দেখেন, তাঁর মা আর বেঁচে নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ে সোনু বলেন, চোখের সামনে মায়ের মৃত্যু দেখেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, একটু এদিক-ওদিক হলেই হয়তো তিনিও প্রাণে বাঁচতেন না।

সরু গেট, আলো কম, দীর্ঘ অপেক্ষা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে মণ্ডপের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক দর্শনার্থীর দাবি, প্রবেশপথের সামনে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লম্বা লাইন ছিল। তার মধ্যে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দ্রুত ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন অনেকে। প্রবেশপথ ছিল যথেষ্ট সরু। ফলে একসঙ্গে অনেক মানুষের ঢোকার চেষ্টা থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, প্রবেশপথে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আর এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ভিড়ের চাপে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে মোটরবাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের আর এক বয়ানে উঠে এসেছে, মণ্ডপের ভিতরে কাঠের একটি কাঠামো ভেঙে পড়ার কথাও। তবে সেটি কী কারণে ভেঙেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৃষ্টি, ভিড়ের চাপ এবং মণ্ডপের ব্যবস্থাপনার মধ্যে কোন বিষয়টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন তিনি। ঘটনার তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী বাহিনী, অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং অন্যান্য দফতরের আধিকারিকেরা থাকবেন বলে খবর। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *