দুই বছর আগে প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প। সেই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রচারও হয়েছিল। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই সেবাশ্রয়কে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এবার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে বিতর্কে জড়াল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত একটি সেবাশ্রয় ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একটি রিসর্টের মালিক। অভিযোগ, সেবাশ্রয় ক্যাম্প পরিচালনার জন্য ‘ইকো ক্রিক’ নামে একটি রিসর্ট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রায় দেড়শো কর্মীর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেই পরিষেবার বাবদ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ।
রিসর্ট মালিকের দাবি, তৎকালীন সময়ে ওই রিসর্ট ভাড়া নেওয়ার উদ্যোগে ছিলেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তথা তৎকালীন মন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের কর্মীরা ওই রিসর্টে থাকতেন। পাশাপাশি, সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়ও সেখানে থাকতেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, বারবার বকেয়া টাকা চাওয়া হলেও তা মেটানো হয়নি। উল্টে তাঁদের জানানো হয়েছিল, ব্যবসা করতে গেলে এ ধরনের বিষয় মেনে নিতেই হবে এবং কোনও অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়। রিসর্ট মালিকের দাবি, সেই সময় রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকায় ভয়ের পরিবেশে তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হতে পারেননি। সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদল হওয়ায় সাহস করে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, সেবাশ্রয় প্রকল্পের আড়ালে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, শনিবারই বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, সেবাশ্রয়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে এবং গোটা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘সেবাশ্রয়ে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না।’