Argentina on Falkland Islands Banner Row। জয়ের আনন্দে ‘ফকল্যান্ড বার্তা’

Spread the love

Argentina on Falkland Islands Banner Row: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের পর শুধু জয় নয়, বিতর্কের কেন্দ্রেও চলে এসেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কারণ, জয়ের উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা হাতে তুলে নেন একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, ‘Las Malvinas son Argentinas’ অর্থাৎ ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’। এই বার্তা ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগে ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

আর্জেন্টিনা যে দ্বীপপুঞ্জকে ‘আইলস মালভিনাস’ নামে দাবি করে, সেটিই আন্তর্জাতিকভাবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত। বর্তমানে এটি ব্রিটেনের অধীনস্থ একটি বিদেশি অঞ্চল। ১৯৮২ সালে তৎকালীন আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার ওই দ্বীপ দখলের চেষ্টা করলে ব্রিটেনের সঙ্গে ১০ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাকর্মী এবং তিনজন দ্বীপবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই সংঘাত আজও দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এরপর দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে তারা ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের দেওয়া ওই ব্যানার হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। সেই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘এটি আমাদের ইতিহাসের অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি অধ্যায়। সেই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের জন্যই এটি আবেগের বিষয়। আমরা জানতাম, শুধু নিজেদের জন্য নয়, পুরো দেশের মানুষের জন্যও খেলছি। আমরা চেয়েছিলাম সবাইকে এই বার্তা দিতে যে এটি আমাদের কাছে শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না।’ অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বলেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার মানুষকে হতাশ করতে পারতাম না।’ তাঁর মন্তব্যও এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক, আদর্শগত, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তা প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা জাতীয় ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ফলে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রী কাইল ফিফাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘রাজনীতি এবং ফুটবলকে আলাদা রাখা উচিত। বিশ্বকাপের অন্যতম মূল নীতিই হল খেলার সঙ্গে রাজনীতিকে না জড়ানো। এখন বিষয়টি ফিফার দেখার।’ উল্লেখ্য, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত প্রায় ৩,৫০০ জন বাসিন্দার এই দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ব্রিটেনের দাবি, ১৭৬৫ সাল থেকেই তাদের এই ভূখণ্ডের উপর অধিকার রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক বিরোধ আজও মেটেনি। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলের আবেগের সঙ্গে সেই রাজনৈতিক ইস্যু জড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিল আর্জেন্টিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *