Aroop Biswas: একাধিকবার হাজিরা এড়ানোর পর বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আলিপুর জেলা আদালতে আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, ডিম ছোড়া হয় তাঁকে লক্ষ্য করে। সেই নিয়েই এবার কলকাতা হাইকোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী। তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই ঘটনায় এবার সাময়িক স্বস্তি পেলেন অরূপ বিশ্বাস। তাঁকে রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বড় নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার হলে আদালতকে সেই বিষয়ে জানাতে হবে।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে অরূপ বিশ্বাস
মেসিকাণ্ডে একাধিকবার হাজিরা এড়িয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। অবশেষে গত ১৮ জুন বিধাননগর দক্ষিণ থানায় উপস্থিত হন। সেদিনই আলিপুর জেলা আদালতে বিক্ষোভের মুখেও পড়েন তিনি। অভিযোগ, আইনজীবীদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন, চোর চোর স্লোগান দেন। সেই নিয়েই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। অরূপের অভিযোগ, তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এবার তাঁকে রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবারের শুনানিতে আদালত অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বহাল রাখার পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেয়, ২৩ জুলাই পর্যন্ত এই মামলার প্রেক্ষিতে কোনও আইনি পদক্ষেপের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আগে আদালতের নজরে আনতে হবে। প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনজীবী কিশোর দত্ত প্রশ্ন করেন, পুলিশের সামনেই ডিম ছোঁড়া থেকে শুরু করে অভিযুক্তদের উপর আক্রমণ সব হচ্ছে। যারা গ্রেফতার হয়েছেন, কেন তাঁদের এভাবে মারা হচ্ছে?
একথা শুনে ধৃতদের কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘কোমরে দড়ি পরিয়ে প্যারেডিংও বন্ধ হওয়া উচিত।’ কলকাতা হাইকোর্টের আরও নির্দেশ, অরূপের উপর হামলার যে ঘটনা ঘটেছে, তার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। এই নির্দেশের ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও মামলার আইনি লড়াই শেষ হয়নি। আগামী ২৩ জুলাই ফের বিষয়টি আদালতে উঠতে পারে। সেই শুনানিতেই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চলছে মেসি-কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদও। বিধাননগর দক্ষিণ থানা গোটা এই ঘটনায় ১০ তারিখ, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে মেসিকাণ্ডেও অরূপ বিশ্বাসকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। গত ১৭ জুন তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, এই সময়ের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। পাশাপাশি, অরূপকে বলা হয়েছিল, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না ও তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। এদিন ফের এক বড় নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত। আজ বিচারপতি ভট্টাচার্যের দেওয়া রক্ষাকবচের ফলে অরূপ বিশ্বাসের স্বস্তি খানিকটা বাড়ল বলে মনে করছেন অনেকে।