বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে দেখা যায় তাঁকে। এবার নিজের দেশেই কঠোর সমালোচনার শিকার হলেন পাক সেনা প্রধান আসিম মুনির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকেই তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাক আর্মি চিফ। এবার ট্রাম্পকে ‘রেয়ার আর্থ মেটেরিয়াল’ উপহার দিতেও দেখা গেল তাঁকে। রেয়ার আর্থ মেটেরিয়াল হল এমন কিছু বিশেষ খনিজ পদার্থ যা সহজে পৃথিবীতে পাওয়া যায় না। দুর্লভ বলে এগুলির দামও যথেষ্ট বেশি। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন এই উপহার দেওয়া হল, তা নিয়ে নিজের দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন মুনির। বিদেশি শক্তির সঙ্গে সেনাবাহিনীর এই ঘনিষ্ঠতা পাক রাজনীতিবিদদের অনেকেই ভালো চোখে দেখছেন না।
‘যেন সেলসম্যান’
মুনিরের উপহার দেওয়ার সময় তাঁর চোখের ভাষাও ছিল অদ্ভুত। পাক সেনেটর আয়মল আলি খান মুনিরের এই উপহার দেওয়াকে দোকানদারের জিনিস দেখানোর সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘এ যেন এক সেলসম্যান দামি কোনও জিনিস তাঁর ক্রেতাকে দেখাচ্ছেন।’সংসদের এক অধিবেশনে আয়মল আরও বলেন, ‘আমাদের সেনাপ্রধান বিরল মাটির খনিজ পদার্থ ভর্তি একটি ব্রিফকেস নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কী রসিকতা! এটা সম্পূর্ণ উপহাস।’
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ছিলেন পাশেই
প্রসঙ্গত, এই সপ্তাহের গোড়ায় হোয়াইট হাউস একটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প মুনিরের দেওয়া বিরল মাটির খনিজ পদার্থ সম্বলিত একটি কাঠের বাক্সটি গভীরভাবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ পাশ থেকে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন। সেই মুহূর্তে একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছিল। পাকিস্তানি সামরিক প্রকৌশল ও নির্মাণ সংস্থা, ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন এবং মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক মেটালস প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে ব্যবহারের জন্য পাকিস্তানে যৌথভাবে কৌশলগত খনিজ অনুসন্ধানের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

পাঁচ মাসে তৃতীয়বার সফর
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে পাকিস্তানি নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এই ছবি তোলা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে পাঁচ মাসের মধ্যে এটি মুনিরের তৃতীয় মার্কিন সফর, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের গভীরতা বাড়বার আভাস দিচ্ছে।