Baruipur Violence: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া অশান্তির জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। দাঙ্গায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে সেই মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে।
গত রবিবার বারুইপুরে এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাজুড়ে বিক্ষোভ, রাস্তা ও রেল অবরোধ, পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সন্দেহের বশে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
ঘটনার পর বারুইপুর সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গণপিটুনিতে নিহত যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। তিনি দাবি করেন, বারুইপুরের অশান্তির পিছনে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তির মদত রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয়ের পর পরিকল্পিতভাবে হিংসায় উসকানি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক কল রেকর্ড সংগ্রহ করেছে এবং তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
এরই মধ্যে গত ৭ জুলাই বিজেপির পক্ষ থেকে সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী-সহ চার নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা সামাজিক মাধ্যমে এবং বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা নিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় সিপিএম নেতা লাহেক আলি হাই কোর্টের শরণাপন্ন হন।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র এবং ইউটিউবার অনুভব মাইতিও। বৃহস্পতিবার তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক এফআইআর দায়ের করেন বিজেপি নেতা সুশোভন রায়। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার দিন সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য ও পোস্ট করা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়, আরএসএস বা বিজেপিকে ঘটনায় জড়িত বলে মনে করার পরিবেশ তৈরি হয়। তাঁর দাবি, এই ধরনের বক্তব্য থেকেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যার জেরে রেললাইন উপড়ে ফেলা, বাড়িঘরে হামলা এবং গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটেছে।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বলেন, বারুইপুরের ঘটনায় অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। কিন্তু তিনি কোনওভাবেই এই অভিযোগ মানতে রাজি নন। শ্রীলেখার বক্তব্য, তিনি কোথায়, কখন এবং কীভাবে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনতে হবে। প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।