বলিউড এ-লিস্টাররা এবার পড়ুয়াদের সমর্থনে পোস্ট করা শুরু করেছেন। যেখানে তাঁরা দেশে হয়ে চলা ছাত্র আন্দোলন, সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জ, শিক্ষা সংস্কারের দাবি, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং এনইইটি প্রশ্ন ফাঁসের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি-র মতো ইস্যুতে সরব হচ্ছেন। আলিয়ার পর এবার একে একে সামনে এল করিনা কাপুর, বরুণ ধাওয়ান, সারা আলি খান, অনন্যা পাণ্ডেদের পোস্ট।
করিনা কাপুর খান:
বলিউডের ওজিনায়িকা করিনা কাপুর খান বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিলাম। কিন্তু আর নীরব থাকতে পারছি না। এত সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কণ্ঠস্বর, যারা শুধু নিজেদের কথা শোনাতে চাইছে, তা উপেক্ষা করা অসম্ভব। আর তা করা উচিতও নয়। আমরা সবাই জানি, একটি শিশুর জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব কতটা। শিক্ষা তাকে আত্মবিশ্বাস দেয়, আশা দেয় এবং পরিবারের কাছে আগামীকাল আরও ভালো হতে পারে—সেই বিশ্বাস তৈরি করে। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা তখনই ভেঙে যায়, যখন তারা মনে করতে শুরু করে যে সততা, কঠোর পরিশ্রম আর মেধার কোনো মূল্য নেই।’
এরপর তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থীর এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা পাওয়ার অধিকার আছে, যার ওপর তারা ভরসা করতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী যেন কখনও না ভাবে, শুধু পরিশ্রম করলেই যথেষ্ট হবে না। তারা এমন একটি ব্যবস্থা পাওয়ার যোগ্য, যেখানে সত্যিকারের মেধার মূল্য দেওয়া হয়, পরিশ্রমের স্বীকৃতি মেলে এবং সবাই সমান সুযোগ নিয়ে শুরু করতে পারে। এটা খুব বেশি কিছু চাওয়া নয়, এটাই ন্যূনতম প্রত্যাশা। যখন একটি পুরো প্রজন্ম নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একসঙ্গে কথা বলে, তখন তাদের কথা শোনা কোনো দয়া নয়, বরং আমাদের দায়িত্ব। আজকের শিশুরা আমাদের দেখছে। আমরা এখন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই, সেটাই তাদের শেখাবে ন্যায়বিচার ও বিশ্বাস সত্যিই আছে, নাকি এগুলো শুধু বড়দের মুখের কথা। তারা শুধু আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে না, তারাই আগামী দিনের ভারত।’
বরুণ ধাওয়ান:
বরুণ লেখেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে গেলে, শুধু একটি স্বপ্ন নয়, একটি পুরো পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যায়। যখন তারা মনে করে যে ব্যবস্থা তাদের প্রতি ব্যর্থ হয়েছে, তখন প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা, সুরক্ষিত রাখা এবং আন্তরিকভাবে সেই উদ্বেগের সমাধান করা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করছি, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও অর্থবহ সমাধানের পথে এগিয়ে আসুন এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন। একই সঙ্গে আমার আন্তরিক আশা, এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু যেন শিক্ষার্থীরাই থাকে। আলোচনার কেন্দ্রেও থাকুক তাদের সমস্যা এবং তার সমাধান। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ একটি গণতান্ত্রিক অধিকার, এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকা উচিত। জয় হিন্দ।’
সারা আলি খান:
সারা আলি খানও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, এই প্রতিবাদ তাঁকে প্রকৃত দেশপ্রেমের কথা মনে করিয়ে দেয়। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ, আর তাদের ভবিষ্যতের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের দৃঢ় সংকল্প যেন এক নীরব অথচ অদম্য শিখা, যা আমার চোখে জল এনে দেয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সত্যিকারের দেশপ্রেম বাস করে সেই সাহসী মানুষদের হৃদয়ে, যারা নিজেদের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস দেখায়। আরও ভালো ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য তাদের সাহস ও লড়াই আমাদের অনুপ্রাণিত করে এবং আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। আমাদের উচিত খোলা মনে তাদের কথা শোনা, আন্তরিকভাবে তাদের পাশে থাকা এবং তাদের সঙ্গে পথ চলা। তাদের স্বপ্নের সঙ্গে আমাদের স্বপ্নও জড়িয়ে আছে। আমি একজন আশাবাদী দেশপ্রেমিক হিসেবে বিশ্বাস করি, সরকার অবশ্যই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। জয় হিন্দ।’