Cockroach Janta Party: একটা সাধারণ ‘মিম’ যে অল্প সময়ের মধ্যেই এত জনপ্রিয়তা পেয়ে যাবে, যে কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা বিজেপিকেও ছাপিয়ে যাবে, তা হয়তো কল্পনাও করা যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই এক্সে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ফলোয়ার সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ কোটি ২২ লক্ষ। কিন্তু এরপরই নাকি তাঁদের এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়। তবে দলের প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দিপকে একে কর্তৃপক্ষের ‘সেলফ গোল’ বা আত্মঘাতী গোল হিসেবেই দেখছেন। তবে এক্স হ্যান্ডেলটি ব্লক হওয়ার পর দমে যাননি আন্দোলনকারীরা। ‘আরশোলারা মরে না‘ স্লোগানকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই তারা নতুন একটি বিকল্প এক্স একাউন্ট খুলেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার সব প্ল্যাটফর্মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান হয়েছে ঝড়ের মতো। কয়েকদিন আগেও যেখানে এটি ছিল নিছক একটি অনলাইন স্যাটায়ার আন্দোলন, সেখানে এখন এটি পরিণত হয়েছে জনরোষ, বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, রাজনৈতিক ভাষ্য আর প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা নিয়ে যুবসমাজের সমালোচনার শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যের প্রতিবাদে তৈরি হওয়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টটি বৃহস্পতিবার ভারতে ব্লক বা ‘উইথহেল্ড’ করার পর অভিজিৎ দিপকে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে জানান, দলের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারত থেকে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, ‘ ‘ঠিক যেমনটা মনে করেছিলাম, তেমনটাই হল। ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে ভারতে।’এরপরে এক্স হ্যান্ডেল থেকেই তিনি জানিয়েছেন, তাঁর রাজনৈতিক সংগঠনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সিজেপি বনাম বিজেপি
ইনস্টাগ্রামে এই ককরোচ জনতা পার্টি ১০ মিলিয়ন ফলোয়ার তৈরি করেছে। যা বিজেপি-র অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের ৮.৭ মিলিয়ন ফলোয়ারকে ছাপিয়ে গিয়েছে। সেখানে কংগ্রেসের ফলোয়ার সংখ্যা ১৩ মিলিয়ন। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টি অনেক পিছিয়ে আছে।
যুব সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে এই ককরোচ জনতা পার্টি। বলা হচ্ছে, এর মূল মন্ত্র, ‘যুব সম্প্রদায়ের দ্বারা, যুব সম্প্রদায়ের জন্য।’ স্লোগানও তৈরি হয়েছে এই পার্টির। ‘সেক্যুলার, সোশ্যালিস্ট, ডেমক্রেটিক, লেজি।’ কটাক্ষ, মিমি এবং রাজনৈতিক খোঁচা দেওয়া থেকে শুরু করে একটি প্ল্যাটফর্ম তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে রাতারাতি। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সুপ্রিম কোর্টে করা গত সপ্তাহের একটি মন্তব্যই এই ককরোচ জনতা পার্টির নামকরণের নেপথ্যে কাজ করেছে। বেকার যুবকরা অনলাইনে বেশি সময় কেন কাটান, সে সম্পর্কে তাঁর মন্তব্যে উঠে আসে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ শব্দগুলি।

কে এই অভিজিৎ দিপকে?
বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পাশ ৩০ বছরের অভিজিৎ দিপকে একটা সময়ে ছিলেন আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেন ওয়ার্কার হিসেবে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে থাকা ওই দু’টি শব্দই আমাকে নয়া আন্দোলন গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘যিনি সংবিধানের রক্ষাকর্তা, তাঁর থেকে এ ধরনের মন্তব্য আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। সংবিধানই তো আমাদের বাকস্বাধীনতা দিয়েছে।’ যদিও দেশের প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে নিজের মন্তব্যের সপক্ষে দাবি করেছিলেন, তাঁর কথা বিকৃত করা হয়েছে। যারা ভুয়ো ডিগ্রি নিয়ে নানা পেশায় ঢুকে পড়েছে, তাদের জন্যই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতির সাফাই মোটে যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয়নি ককরোচ জনতা পার্টির ফলোয়ারদের। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই পার্টি লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার অর্জন করে ফেলে। এই পার্টি জয়েন করে ফেলেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ।