Dhruv Rathee London Protest। ‘যারা একদিন দেশ শাসন করেছিল…’

Spread the love

ভারতে প্রতিবাদ করার অধিকার নেই, অথচ লন্ডনে দাঁড়িয়ে অবাধে কথা বলা যাচ্ছে! ব্রিটেনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে দাঁড়িয়ে এমনই মন্তব্য করলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে লন্ডনে জড়ো হয়েছিলেন প্রবাসী ভারতীয়দের একাংশ। সেই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের গণতন্ত্র ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে সরব হন রাঠী। তবে তাঁকে ঘিরে বিতর্কের শেষ এখানেই নয়। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করে পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন অন্য এক দল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষকে আলাদা করে দেয় লন্ডনের পুলিশ। ফলে ভারতের রাজনৈতিক সংঘাতের আঁচ পৌঁছে গেল বিদেশের মাটিতেও।

ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, নিশানায় জ্ঞানেশ কুমার

শনিবার, ১৭ অক্টোবর লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির কাছে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উদ্যোগে ছিল ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের যুব শাখা। ব্রিটেনে থাকা একাধিক ভারতীয় ছাত্র ও প্রবাসী সংগঠনও এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে। তাদের মধ্যে ছিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার ব্রিটেন শাখা এবং সাউথ এশিয়া সলিডারিটি গ্রুপ। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন পোস্টার ও পতাকা। ওঠে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান। পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনাও পাঠ করা হয়।

এই কর্মসূচির মূল দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার ফলে ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রাঠীর বক্তব্য, সরকার ও বিরোধী পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলতে পারে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন।

বক্তৃতায় রাঠী বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ তাঁরা চান না। তিনি লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে দাঁড়িয়ে ভারতীয় এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন। তাঁর দাবি, দিল্লিতে প্রতিবাদ ঠেকাতে ৩৫ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের মারধর এবং নিজের বাড়ি থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন। উল্লেখ্য, দিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচির আগে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক হওয়ার পর প্রায় ১৮ ঘণ্টা বাদে মুক্তি পেয়েছিলেন রাঠী। সেই ঘটনাকে তিনি অপহরণ বলে দাবি করেছিলেন।

পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

তবে লন্ডনের কর্মসূচিতে শুধু রাঠীর সমর্থকেরাই ছিলেন না। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করে সেখানে জড়ো হয় অন্য একটি দল। তাদের মুখে শোনা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমর্থনে স্লোগান। ‘ইন্ডিয়া ডায়াসপোরা ইউকে’-র প্রতিষ্ঠাতা হৃদেশ গুপ্ত জানান, শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত ভারতের লক্ষ্যে প্রবাসী ভারতীয়দের একাংশ মোদী সরকারকে সমর্থন করছে। দুই পক্ষই পরস্পরের স্লোগান ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা বাড়ে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দলকে আলাদা করে দেয় লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *