শেষমেশ সম্পন্ন হল ডেনমার্ক ও আমেরিকার মধ্যে গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি। এই চুক্তি অনুযায়ী, স্থায়ী সামরিক কভার, গ্রিনল্যান্ডকে দেবে আমেরিকা। চুক্তি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি গ্রিনল্যান্ডের রাশ এবার আমেরিকার হাতে চলে গেল? গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে এবং সেখানে প্রতিপক্ষ দেশের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতেই এমন চুক্তি হয়েছে বলে খবর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, তিনি ডেনমার্কের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন, যার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ওপর ওয়াশিংটন ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে এবং এই আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চিন ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না। ট্রাম্প জানুয়ারিতে বলেছিলেন যে, রাশিয়া বা চিন যাতে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এর ‘মালিকানা’ নেওয়া। তিনি বলেছিলেন, এটি ‘সহজ উপায়ে’ বা ‘কঠিন উপায়ে’ হতে পারে। আর আগে, ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে কৌশলগত কারণে ওয়াশিংটনের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন, যা আমেরিকার ন্যাটো সঙ্গী ডেনমার্ককে উদ্বেগে রেখেছিল। ডেনমার্ক এবং কোপেনহেগেন-নিয়ন্ত্রিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড উভয়ই এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বেশ কিছু রিপোর্টে গ্রিনল্যান্ডেে বিরল খণিজ ঘিরে তথ্য উঠে আসে। আর এই বিরল খণিজের দৌড়ে রয়েছে চিনও। সেই জায়গা থেকে গ্রিনল্যান্ড চুক্তি বেশ তাৎপর্যবাহী।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কে বলেছেন, ‘আমি আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক রাজ্য এবং গ্রিনল্যান্ডের সাথে একটি চুক্তিতে প্রবেশ করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সকল প্রয়োজনের উপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে।’ ট্রাম্পের বার্তা এখন থেকে, আমাদের সুস্পষ্ট লিখিত অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রতিপক্ষ গ্রিনল্যান্ডে কোনো ঘাঁটি স্থাপন করতে, সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে, বা সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না।

ট্রাম্প জানিয়েছেন এই চুক্তি অনন্তকালের জন্য। ওয়াশিংটন অবিলম্বে ওই অঞ্চলে একটি বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে শুরু করবে। মার্কিন বিদেশ দফতরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এই চুক্তি নিশ্চিত করে যে চিন ও রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডে কোনো ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না, তারা সেখানে সৈন্য পাঠাতে পারবে না এবং সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে।’