ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধ পার করেছে কয়েক মাস। এদিকে, এখনও পর্যন্ত কোনও উপসংহারে পৌঁছায়নি দুই পক্ষ। তারই ইরানে মার্কিন হামলার পর, মধ্যপ্রাচ্যের বহু জায়গায় মার্কিন ঘাঁটি তাক করে সমানে সমানে লড়ে যাচ্ছে তেহরানও! এরই মাঝে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার সেনার জয়েন্ট স্টাফে কর্মরত ৫০ জনকে পলিগ্রাফ টেস্ট করিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এঁদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে ইরান যুদ্ধের গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে চলছে তদন্ত। ইরান যুদ্ধের জেরে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে কমতি-র মতো বিভিন্ন তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ, এমনই রিপোর্ট উঠে এসেছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে। ওদিকে, ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের পিকাক্সে পর্বতে হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ইতিমধ্যেই বহু মার্কিন সেনা অফিসার ও স্টাফকে জিজ্ঞাসাবাদের পর্ব চলছে। জানার চেষ্টা চলছে, তাঁরা কোনও গোপন তথ্য ফাঁস করে ফেলেছেন কি না! তদন্তের মাঝে মার্কিন সেনার সঙ্গে জড়িত অনেকেরই পলিগ্রাফ টেস্ট হয়েছে, এই টেস্ট থেকে জানার চেষ্টা চলছে, তাঁরা সত্যি বলছেন কিনা! পাল্টা-ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর (যেমন—প্যাট্রিয়ট) ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে মিডিয়ায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর আগস্ট মাসে এই পরীক্ষাগুলো চালানো হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, বিভাগটি ‘অভ্যন্তরীণ কর্মী বা তদন্ত-সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে না, তবে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গোপনীয় তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় এবং সে অনুযায়ী তদন্ত চালানো হয়।’

ট্রাম্পের টার্গেটে কেন পিকাক্সে পর্বত?
ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে ট্রাম্প এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, ইরানের ওপর তাঁর দেশের হামলার মূল কারণ ছিল, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র হাতানোর থেকে রোখা। এদিকে, ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কয়েক দিনের মাথায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা,যা ‘পিকাক্স পর্বত’ নামে পরিচিত,সেখানে আঘাত হানতে পারে। ফলত, ‘পিকাক্স পর্বত’ ঘিরে আমেরিকার হামলার হুঁশিয়ারির মূল কারণ, পারমাণবিক অস্ত্র। ট্রাম্প বলছেন, ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। ট্রাম্পের সাফ হুঁশিয়ারি, ‘আমরা খুব শীঘ্রই ‘পিকাক্সে ‘-এর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারি; কারণ ‘পিকঅ্যাক্স’-কে ঘিরে যদি কোনও কিছু ঘটে থাকে…’। সুর চড়িয়ে ট্রাম্প বলছেন, ‘যদি কোনও কিছু খারাপ হয়, আমরা তাদের আঘাত করব, কঠিন আঘাত করব।’ প্রসঙ্গত, ইরানের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাতানজ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছেই ‘পিকাক্স পর্বত’ অবস্থিত; এটিকে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যার ভেতরে মাটির অনেক গভীরে দুটি সুড়ঙ্গ-ব্যবস্থা রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর আগে জানিয়েছিল যে, ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি মনে করে,ইরান হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত এই স্থাপনাটিতে সরিয়ে নিয়েছে।