গাজায় শান্তি প্রচেষ্টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। ট্রাম্প সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরে হামাস ইতিমধ্যেই সব ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই আবহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, এটি এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এক্স পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘গাজায় শান্তি প্রচেষ্টার নির্ণায়ক অগ্রগতির আবহে আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বকে স্বাগত জানাই। বন্দিদের মুক্তির ইঙ্গিত একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ এই শান্তি প্রক্রিয়ায়। স্থিতিশীল ও ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভারত সব রকমের প্রয়াসকে জোরালোভাবে সমর্থন জানাবে।’
উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প এই গাজা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করে পাকিস্তানের বড় প্রশংসা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, পাকিস্তান তাঁর গাজা পরিকল্পনার সঙ্গে রয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাক সেনা প্রধান আসিম মুনিরের নাম নিয়ে ট্রাম্প পাকিস্তান বন্দনা করেছিলেন সাংবাদিকদের সামনে। তবে ট্রাম্পের সেই বন্দনার পরেই পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সহমত নয় পাকিস্তান। এককথায়, ট্রাম্পকে গাছে তুলে মই কেড়ে নেয় পাকিস্তান। আর এদিকে ভারতের মোদী শান্তি প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন।

এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মিলে দু’বছর ধরে চলা সংঘাতে ইতি টানতে ২০ দফার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনার অধীনে হামাসের হাতে বন্দি থাকা সকল মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে গাজায় কোনও ভূমিকা থাকবে না এই জঙ্গি গোষ্ঠীর। ইজরায়েল প্রায় ২,০০০ বন্দিকে মুক্তি দেবে। আর তারা গাজা দখল করবে না। নেতানিয়াহু এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিও সেই চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারইমধ্যে বড়সড় পালটি মেরেছে পাকিস্তান। প্রাথমিকভাবে ট্রাম্পের গাজা প্রস্তাবে সমর্থন করেছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু ইউ-টার্ন মেরে পাকিস্তানের ইসহাক দার দাবি করেছেন, মুসলিম প্রধান দেশগুলি তাঁকে যে খসড়া দিয়েছিল, সেটার সঙ্গে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার মিল নেই। যদিও আগে ট্রাম্পকে সমর্থন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট পর্যন্ত করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।