জল্পনা ছিলই। আর সেই মতই নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে হাসিরানি রথের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে এসেছেন, সেই আসনেই এবার বিজেপির হয়ে লড়বেন তাঁরই নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। অন্যদিকে রেজিনগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শাখারভ সরকার।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মঙ্গলবারই নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের মনোনয়ন জমা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। হলদিয়া মহকুমাশাসকের দপ্তরে মনোনয়ন জমা দেবেন তিনি। এই কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও।
প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণার পর হাসিরানি রথ সকালে রেয়াপাড়ার জানকীনাথ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচ মন্ত্রী অরূপ কুমার দাস, নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল-সহ দলের একাধিক নেতা ও কর্মী। দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিয়ে তিনি খুশি বলেই ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দল তাঁর উপর ভরসা করেছে এবং সংগঠনও তাঁর পাশে রয়েছে। তাই জয় নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
হাসিরানি রথ দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি রাজনীতি করছেন। পঞ্চায়েত স্তরেও একাধিকবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পুরনো পরিচিতি রয়েছে। এই অভিজ্ঞতাকেই এবার ভোটের লড়াইয়ে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি।

নন্দীগ্রাম আসনটি বিজেপির কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। ফলে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়। এর আগে থেকেই জল্পনা চলছিল, এই কেন্দ্রে বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে।
দলের অন্দরে কয়েকজনের নাম নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত হাসিরানি রথের নামই চূড়ান্ত হয়। তাঁর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল। হাসিরানি নিজেও আগে জানিয়েছিলেন, পরিবারের অভিভাবক হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী চাইলে তিনি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত।
এবার সেই জল্পনাই সত্যি হল। ছেলেকে হারানোর শোক এখনও তাঁর জীবনে রয়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি ভোটের ময়দানে নামছেন। ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি এবার তাঁর সামনে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষাও রয়েছে। নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁকে কতটা সমর্থন করেন, তার উত্তর মিলবে ৬ অক্টোবরের ভোটে।
মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে দলীয় কর্মসূচিও রয়েছে। সকাল ১১টা নাগাদ হলদিয়ার কদমতলায় সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর দলীয় কর্মসূচি শেষ করে হাসিরানি রথকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় দু’কিলোমিটার পদযাত্রা করে হলদিয়া মহকুমাশাসকের দপ্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। সেখানে তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন তাই শুধু একটি আসনের ভোট নয়, বিজেপির কাছে এটি শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া গড় ধরে রাখার লড়াইও। আর সেই লড়াইয়ে প্রার্থী হিসেবে এবার সামনে এলেন নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ।