জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার এক বছর পূরণ হয়েছে আজ। গত বছর আজকের দিনে পাকিস্তানি জঙ্গিরা ধর্ম জিজ্ঞেস করে ২৫ জন হিন্দু পর্যটককে খুন করেছিল। সঙ্গে এক স্থানীয় যুবকেরও মৃত্যু হয়েছিল সেই জঙ্গি হানায়। সেই হামলার এক বছর পরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পহেলগাঁও হামলার পরে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী এবং হামাসের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিউজ ১৮ তাদের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত এক বছরে পাক জঙ্গি এবং হামাস যোগের নেটওয়ার্ক খুব শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তদন্তে জানতে পেরেছে, বিগত সময়ে পাকিস্তানে আনাগোনা বেড়েছে হামাস জঙ্গি নেতাদের। বেশ কয়েকবার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে পাক জঙ্গি এবং হামাসের মধ্যে। জানা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এই এক বছর সময়কালে হামাস এবং পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে কমপক্ষে চারটি বৈঠক হয়েছে। ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই বৈঠকগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের দুটি জায়গায় পর্যন্ত পাক জঙ্গি এবং হামাসের যোগাযোগ হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইজরায়েলের উপর হামাসের আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে পহেলগাঁও হামলার। পহেলগাঁও হামলায় হামাসের মতো কৌশল এবং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকী সেই হামলার কয়েক মাস আগে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হামাস জঙ্গি নেতা পা রেখেছিল বলেও জানা যায়। আর পহেলগাঁও হামলার ৭৫ দিন পরে আবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হামাস নেতাদের দেখা গিয়েছিল।
পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগের কমান্ডার ফয়সল নদিমের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার বেশ কয়েক মাস পরে। সেই ভিডিয়োতে ফয়সলকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ২০২৪ সালেই কাতারের দোহাতে হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তার। উল্লেখ্য, এই মারকাজি মুসলিম লিগ হল লস্করের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। রাজনীতির নামে এই সংগঠনের মাধ্যমেও সন্ত্রাস ছড়ানোই লস্করের মূল উদ্দেশ্য। আর ফয়সল নদিম নিজে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের জঙ্গি নেতা।

উল্লেখিত ভিডিয়োতে ফয়সল নদিম জানায়, ২০২৪ সালের দোহায় সেই বৈঠকে তার সঙ্গে ছিল সাইফুল্লা কসুরি। এই সাইফুল্লাই পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড। এদিকে ফয়সল জানায়, দোহায় তারা হামাসের খালেদ মশালের সঙ্গে দেখা করেছিল। এর আগে ২০২৬ সালের শুরুতেই হামাস কমান্ডার নজি জাহির এবং লস্কর কমান্ডার রশিদ আলি সান্ধুর বৈঠক হয়েছিল পাকিস্তানের গুজরনওয়ালায়। সেই বৈঠক হয়েছিল পিএমএমএল-এর এক অনুষ্ঠানের সময়। সেই অনুষ্ঠানে হামাস কমান্ডার জহির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এই জহির প্রায় ১৫ বার পাকিস্তানে গিয়েছে।