ওড়িশার তালসারি সমুদ্রে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’র শ্যুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু স্তব্ধ করে দিয়েছে টলিপাড়াকে। সেই দুর্ঘটনার পর কেটেছে এক মাসেরও বেশি সময়। রাহুলের মৃত্যু তদন্ত কতদূর এগোল সেই নিয়ে প্রশ্ন আম জনতা থেকে টলিউডের মনে। দুর্ঘটনার দিন রাহুলের সঙ্গেই জলে ছিলেন অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? সেই উত্তর খুঁজতেই এবার শ্বেতাকে তলব করেছিল তালসারি থানার পুলিশ। সশরীরে থানায় হাজির হয়ে নিজের বয়ান রেকর্ড করান অভিনেত্রী। এই ব্য়াপারে শ্বেতার মুখে কুলুপ, তবে এই খবরে সিলমোহর দিয়েছেন মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা তদন্তকারী অফিসার শ্রবণ মহাপাত্র।
তিনি আনন্দবাজার অনলাইনকে আরও জানান, ম্যাজিক মোমেন্টস প্রোডাকশনের আরও কিছু কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে সংস্থার দুই কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। দুজনেই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তবে ভোলে বাবা পার করেগা সিরিয়ালের অপর কোনও (শ্বেতা ব্যাতীত) অভিনেতাকে জেরা করা হয়নি। কারণ দুর্ঘটনার সময় বাকি কেউই হাজির ছিলেন না।
জলে ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা গিয়েছে, শ্যুটিংয়ের একটি দৃশ্যের জন্য রাহুল ও শ্বেতা সমুদ্রের হাঁটু সমান জলে নেমেছিলেন। কিন্তু আচমকাই একটি চোরা গর্তে তাঁরা পড়ে যান। শ্বেতাকে কোনওমতে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাহুল তলিয়ে যান। কীভাবে সেই দুর্ঘটনা ঘটল তা নিয়ে ইউনিটের তরফে পরস্পর বিরোধি মন্তব্য মিডিয়ার মাধ্যমে চাউর হওয়ার জেরেই তৈরি হয় বিভ্রান্তি।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:
এই ঘটনায় প্রোডাকশন হাউসের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, উপযুক্ত অনুমতি ছাড়া এবং লাইফ জ্যাকেট বা উদ্ধারকারী দল ছাড়াই উত্তাল সমুদ্রে শ্যুটিং চালানো হচ্ছিল। পুলিশ শ্বেতার বয়ানের পাশাপাশি শ্যুটিং ইউনিটের আরও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। শ্বেতা নিজে এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, তবুও তদন্তের স্বার্থে তিনি পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করছেন।

তদন্তের পরবর্তী ধাপ:
তালসারি পুলিশ জানিয়েছে, শ্বেতার বয়ান এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে ইউনিটের কারো গাফিলতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত এক মাসের তদন্ত প্রক্রিয়া কি ইঙ্গিত দিচ্ছে? সেই নিয়ে মুখ খুলতে না-রাজ তদন্তকারী অফিসার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও মাসখানেক বা মাস দুয়েক সময় লাগতে পারে। তারপরই আদালতে চার্জশিট জমা দেবে পুলিশ।
এখনও আসেনি রাহুলের ভিসেরা রিপোর্ট। সেই রিপোর্টের মাধ্য়মে জানা যাবে, মৃতদেহে (রাহুলের পাকস্থলীতে) সামুদ্রিক জল, বালি ছাড়াও আর কিছু ছিল কি না।
রাহুলের মতো এক প্রতিভাবান অভিনেতার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। শ্যুটিং সেটে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।