দীর্ঘ সাত মাসের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই থেকে ফের চালু হচ্ছে কাঁকিনাড়া জুটমিল। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে আলোচনার পর জট কাটায় মিল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বহুদিন পর কর্মসংস্থানের নতুন আশায় বুক বাঁধছেন তাঁরা।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় কাঁকিনাড়া জুটমিল। প্রথমে ১৫ দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখার নোটিস দেওয়া হলেও পরে সেই সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়তে থাকে। মিল কর্তৃপক্ষ কাঁচামালের অভাব, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও জীবিকার সংকটে ভুগতে থাকা শ্রমিকরা একাধিকবার আন্দোলন ও বিক্ষোভে সামিল হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
এবার রাজ্যে শিল্পোন্নয়ন ও বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাঁকিনাড়া জুটমিল পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের মধ্যস্থতায় মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। সেই বৈঠকেই মিল পুনরায় চালুর বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়। তিনি জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন শুরু হবে। পাশাপাশি আরও ১৭টি বন্ধ জুটমিল পুনরায় চালুর প্রস্তুতিও চলছে এবং খুব শীঘ্রই সেগুলিও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও কাঁকিনাড়া জুটমিলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ১৮৮৩ সালে ‘কাঁকিনাড়া কোম্পানি লিমিটেড’ নামে এই কারখানায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছিল। প্রায় দেড় শতাব্দীর ইতিহাসে একাধিকবার মালিকানা বদল হলেও শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত ছিল এই জুটমিল। বর্তমানে এটি ‘কাঁকিনাড়া জুটমিল লিমিটেড’ নামে পরিচিত।

মিল পুনরায় চালুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই শ্রমিক মহলে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তার পর কাজে ফেরার সুযোগ তাঁদের পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও মনে করছেন, জুটমিল চালু হলে গোটা এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন সকলের নজর ১ জুলাইয়ের দিকে, যেদিন দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কাঁকিনাড়া জুটমিলের চিমনি থেকে ধোঁয়া উঠবে এবং শিল্পাঞ্চলে ফিরবে কর্মচাঞ্চল্য।