S Jaishankar। সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার নয়! ইঙ্গিতবাহী বার্তা জয়শঙ্করের

Spread the love

S Jaishankar: সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’র হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। সন্ত্রাসবাদকে কখনওই ন্যায্য বলে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বিশ্বশান্তির জন্য এই বিপদ মোকাবিলায় সব দেশকে একজোট হওয়ার বার্তা দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

রবিবার নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান বিদেশ মন্ত্রী। এস জয়শঙ্করের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ বিশ্বশান্তির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাষ্ট্রীয় কৌশল বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। কোনও পরিস্থিতিতেই এই ধরনের কার্যকলাপকে যুক্তি দিয়ে সমর্থন করা যায় না। কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম না করেই তিনি বলেন, বিশ্বের সমস্ত দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে কঠোর অবস্থান নেয় না বলেই এই বিপদ এখনও থেকে গিয়েছে। ইতিহাস থেকে বহু শিক্ষা পাওয়া সত্ত্বেও কিছু দেশ এখনও রাজনৈতিক হিসাবনিকাশকে অগ্রাধিকার দেয়।

সম্প্রতি ভারতে এসে পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন বিদেশ সচিব বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক কোনওভাবেই দিল্লির সম্পর্কের বিনিময়ে গড়ে উঠছে না।’ তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও দিল্লির চিন্তা-ভাবনা এবং উদ্বেগ হুবহু এক। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক তাজমহল প্যালেস হোটেলে দাঁড়িয়েই এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুবিও বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তান-সহ বিশ্বের নানা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে হয়। তাঁর দাবি, ইসলামাবাদের সঙ্গে এই কূটনৈতিক সম্পর্ক বহাল থাকলে সে দেশের নীতিগত এবং অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তগুলিতে ওয়াশিংটনের সদর্থক প্রভাব তৈরি করার সুযোগ থাকে। তারপরেই এস জয়শঙ্করের এই মন্তব্য সামনে এল। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে আরও স্পষ্ট সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদের সমস্ত রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আন্তর্জাতিক মহলকে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা সংঘাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এস জয়শঙ্কর। তাঁর কথায়, শান্তি অবিভাজ্য। বিশ্বের কোনও একটি প্রান্তে যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব অন্যত্রও পড়তে পারে। ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতির সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। এস জয়শঙ্করের মতে, যুদ্ধ ও হিংসার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনেও। তাই বিশ্বশান্তি রক্ষায় সব দেশের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *