Taiwan Aircraft Flies Over Pakistan: ইসলামাবাদের আচমকা ইউ-টার্নের পরে পাকিস্তানের আকাশ দিয়ে উড়ল তাইওয়ানের প্রথম বাণিজ্যিক উড়ান। সংবাদসংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইট রেডার ২৪-র ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা গিয়েছে যে বুধবার (ইংরেজি মতে বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে তাইপেই থেকে ভিয়েনাগামী ইভা এয়ারওয়েজ কর্পোরেশনের ফ্লাইট ৬৫। তবে বুধবার গভীর রাতে রওনা দেওয়া ইউরোপগামী অন্যান্য বিমান রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করেছে বা ভারতের উপর দিয়ে উড়ে গিয়েছে।
বেজিংয়ের ‘এক-চিন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল পাকিস্তান
অথচ রবিবার থেকেই তাইওয়ানের উড়ান সংস্থাগুলিকে ভিন্ন রুটে যেতে হচ্ছিল, কারণ বেজিংয়ের ‘এক-চিন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল পাকিস্তান। আসলে বেজিংয়ের তরফে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করা হয়। যে দাবি বরাবর নাকচ করে এসেছে তাইওয়ান। তারপরও বিশ্বমঞ্চে তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে বেজিং। কিন্তু অতীতে কোনও দেশই তাইওয়ানের উড়ান সংস্থাগুলির জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়নি। রবিবার পাকিস্তান ঠিক সেটাই করেছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী (যিনি অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকেরও দেখভাল করেন) খোয়াজা আসিফ দাবি করেছিলেন যে তাঁদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে শুধুমাত্র চিনা উড়ান সংস্থাকে। চিনা উড়ান সংস্থা বলতে তথাকথিত ‘মেনল্যান্ড চিন’ (চিনের মূল ভূখণ্ডের) কথা বুঝিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
‘তোতাপাখির মতো চিনের বিকৃত বয়ান আওড়াচ্ছে’ পাকিস্তান
আর সেই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিল তাইওয়ান। তুলোধোনা করেছিল পাকিস্তানের। বুধবার তাইওয়ানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘তোতাপাখির মতো চিনের বিকৃত বয়ান আওড়াচ্ছে’ পাকিস্তান। আর নিজেদের আকাশসীমাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাইওয়ান কখনও চিনের অধীন ছিল না বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় তাইওয়ানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে।

পাকিস্তানের পাল্টিবাজি
সেই কড়া বার্তার মধ্যেই তড়িঘড়ি পাকিস্তানের অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় যে তাইওয়ানের উড়ান সংস্থাগুলিকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদের যে নথি হাতে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে যে ২৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত তাইওয়ানের উড়ান সংস্থাগুলিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
তারপরই প্রশ্ন উঠেছে যে এবার চিনের রোষের মুখে পড়তে চলেছে পাকিস্তান? এমনিতেই অর্থনৈতিক দিক থেকে কার্যত বেজিংয়ের কথায় উঠতে-বসতে হয় ইসলামাবাদকে। আর যখন পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ, সেইসময় ইসলামাবাদকে কি সামলাতে হবে চিনের রোষ?