বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্রমবর্ধমান গ্রাফ নিয়ে সমাজমাধ্যমে মারাত্মক ক্ষোভ উগরে দিলেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি সাত বছর বয়সী শিশুকন্যার পাশবিক হত্যাকাণ্ড এবং তাঁর প্রতিবেশী ধর্ষক-খুনী সোহেন রানার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন লেখিকা। অপরাধীদের স্বাভাবিক চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বীভৎস রূপ এবং শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নারকীয় হত্যাকাণ্ড ও সীতাকুণ্ডের স্মৃতি:
লেখিকা তাঁর পোস্টে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ফুটফুটে ছাত্রীর হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার বিবরণ দিয়ে সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের চারপাশে প্রতিদিন ওই শিশুকন্যার মতো অসংখ্য নিষ্পাপ বাচ্চা ঘুরে বেড়ায়, যারা আসলে এই বিকৃত মানসিকতার সমাজ ব্যবস্থার সম্ভাব্য শিকার (Potential Victim)। অন্যদিকে, খুনী-ধর্ষক সোহেন রানার মতো অতি সাধারণ চেহারার মানুষদের ভিড়ও চারদিকে, যারা সুযোগ পেলেই সম্ভাব্য ধর্ষক ও খুনী হয়ে উঠছে। সীতাকুণ্ড পাহাড়ের এক পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে লেখিকা বলেন, সেখানে এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা সম্পূর্ণ কাটতে পারেনি খুনি। কিন্তু রেহাই পায়নি ওই খুদে। মাত্র ৭ বছরের বাচ্চা মেয়েটার ধড় ও মুণ্ডু আলাদা করে দুই ঘরে ফেলে রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানিক অবক্ষয় নিয়ে কড়া তোপ:
তসলিমা নাসরিনের দাবি, এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ঘটনা বর্তমানে সর্বত্র ঘটছে। ধানক্ষেত, পাটক্ষেত, জংলা থেকে শুরু করে ঘর কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান— কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। এই অপরাধ প্রবণতা এবং হিংস্রতার নেপথ্যে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরের এক গভীর নৈতিক অবক্ষয় কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন।

ক্ষোভ ও হতাশা থেকে বিলুপ্তির ডাক:
দেশে শিশুদের জন্য কোনো নিরাপদ ভবিষ্যৎ না দেখতে পেয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন লেখিকা। তিনি লিখেছেন, এমন এক পরিস্থিতিতে দেশে কোনো শিশুর জন্ম হওয়াই উচিত নয়। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, যে সমাজ বা জাতি শিশুদের ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে পারে না এবং যেখানে প্রতিদিন বর্বরতা, হিংস্রতা আর বীভৎসতার মহোৎসব চলে, সেই অসুস্থ ও অমানবিক মানসিকতার অবসান হওয়া প্রয়োজন। তিনি লেখেন, ‘আমার তো মনে হয় বাংলাদেশে কোনও শিশুর জন্ম হওয়াই উচিত নয়। বন্ধ হয়ে যাক শিশুজন্ম। এই অসুস্থ অসভ্য অশ্লীল অমানবিক বাংলাদেশিমুসলমানজাতি ধর্ষণ করতে করতে, খুন করতে করতে; বর্বরতা, হিংস্রতা, আর বীভৎসতা করতে করতে বিলুপ্ত হয়ে যাক’।
তসলিমা নাসরিনের এই পোস্টটি সমাজমাধ্যমে আসার পর থেকেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এই নৃশংস অপরাধগুলোর কঠোরতম শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।প্রসঙ্গত, পল্লবী এলাকার ওই স্কুলছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অপরাধে তাঁর স্ত্রীকেও গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। দোষীদের চরম শাস্তি চায় গোটা বাংলাদেশ।