ভোট হচ্ছে এপার বাংলায়। সেই বিধানসভা ভোটে সোনারপুর দক্ষিণের আসন থেকে এবার শাসকদল তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন লাভলি মৈত্র। এই আবহে ভোটারদের কাছে সমর্থনের আবেদন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তৃণমূল নেত্রী। এই পর্যন্ত সবটাই ঠিক ছিল। তবে পোস্টে কিছু হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছিল। আর তাতেই হয় ‘বিপত্তি’। সেই পোস্টের একটি হ্যাশট্যাগ ছিল – বাংলাদেশ ভোট। যা নিয়ে এবার সরব হয়েছে বিজেপি। পরে বির্তকের মুখে তড়িঘড়ি পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে সেই পোস্টের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। আর ভোটের আগে লাভলি নিজে হাতেই যেন বিজেপির হাতে হাতিয়ার তুলে দিলেন।
লাভলির উক্ত পোস্টে লেখা ছিল, ‘সোনারপুর দক্ষিণের মানুষ, চলুন আমাদের ভোট দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ি। সক্রিয় থাকুন, দায়িত্ব পালন করুন। #সোনারপুরদক্ষিণ #ভোটদিবা #নাগরিকদায়িত্ব #আপনারকণ্ঠ #ভোটেরশক্তি #বাংলাদেশভোট #সচেতননাগরিক #ভবিষ্যৎগড়ি’। এই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, ‘বুঝতে পারছি না উনি বাংলাদেশে লড়ছেন কি না! নাকি পশ্চিমবঙ্গটাকে বাংলাদেশ করার স্বপ্ন দেখছেন? ওখান থেকে হয়তো বাংলাদেশি ভোটারদের ভরসাতেই লড়ছেন লাভলি।’
উল্লেখ্য, এসআইআরের সময় থেকেই বিজেপি অভিযোগ করে আসছে, তৃণমূল আদতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটের ভরসায় জিতে আসছে। তাই এসআইআরে ‘অবৈধ’ ভোটারদের নাম কাটা নিয়ে তাদের এত সমস্যা। এই আবহে লাভলির পোস্টে হ্যাশট্যাগ ইস্যু যেন বিজেপির হাতে হাতিয়ার তুলে দিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে সরব হয়েছেন খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেটার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চান। এটা তাঁদের পরিষ্কার এজেন্ডা।’ এদিকে বঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার আবার বলেন, ‘বাংলার ভোটকে বাংলাদেশের ভোট বলে প্রচার করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে এটাই কি তৃণমূলের দৃষ্টিভঙ্গি?’ এদিকে এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপি অযথা জলঘোলা করছে বলে দাবি করেন তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত। তাঁর কথায়, ‘বর্তমানে সব প্রার্থীরই সোশ্যাল মিডিয়া দেখার জন্য আলাদা লোক থাকে। হয়তো তাঁদেরই কারও ভুলে এটি হয়েছে।’
