West Bengal Firecracker Rules: সুপ্রিম কোর্টের রায় ধরেই কালীপুজো এবং ছটপুজোয় বাজি পোড়ানোয় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল রাজ্য সরকার। উৎসবের আনন্দে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয় এবং জনজীবন বিপন্ন না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখেই এই নিয়মাবলী তৈরি করা হয়েছে। কালীপুজো ও ছটপুজোয় বাজির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার নবান্নের সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠকে এই নিয়ে বিস্তারিত জানালেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা ও স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ দমকল ও পরিবেশ দফতরের আধিকারিকেরাও। আতশবাজি পোড়ানোর উপর পাঁচ ধাপে নজরদারির কথাও জানানো হয়েছে, সঙ্গে বেআইনি বাজির ব্যবসার ক্ষেত্রে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছে পুলিশ-প্রশাসন। এরপর যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে তারা। নবান্নের সভাঘর থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ গ্রিন বাজি ব্যবহারে জোর দেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বাজি পোড়ানোর ফলে বায়ু ও শব্দদূষণের প্রভাব শুধু অন্যের উপরেই পড়ে না, এতে যিনি বাজি পোড়ান, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি হতে পারে। বিশেষত শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি সমস্যায় পড়েন। তাই শুধু প্রশাসনের নজরদারি বা আইনের প্রয়োগের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছে সরকার। তাঁর কথায়, ‘নিজের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়।’ তিনি মনে করেন, প্রশাসনের কড়াকড়ির থেকে মানুষের সচেতনা বেশি জরুরি। তাই বাজি ব্যবহার নিয়ে সকলের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোয় ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে বাজি পোড়ানো চলবে না। ছটপুজোর ক্ষেত্রে পুজোর সময় বিবেচনা করেই আদালত এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রসচিব। তাঁর বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ মেনে চলতেই হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে কোনও শিথিলতা দেখানো হবে না। শব্দের মাত্রা নিয়েও সতর্ক করেছে রাজ্য। স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, শব্দবাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল। আলোর বাজির ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। তাঁর দাবি, অনুমোদিত সবুজ বাজি ব্যবহারে দূষণ কমানোর পাশাপাশি নির্ধারিত বিধি মেনে চলা সহজ হবে। সবুজ বাজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণার নির্গমন তুলনামূলক কম থাকে। তাই সাধারণ মানুষকে অন্য বাজি না কিনে অনুমোদিত সবুজ বাজি কেনার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন। তিনি স্পষ্ট জানান, সাইলেন্ট জোন অর্থাৎ হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। সেখানে নীরবতা বজায় রাখতে হবে।

একই সঙ্গে দূষণ কমাতে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি বাজি তৈরি, মজুত, পরিবহণ, বিক্রি এবং ব্যবহারের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি চালানো হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। বাজির বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরসভা, পুলিশ ও দমকল যৌথ ভাবে কাজ করবে। জনবসতি থেকে দূরে নির্দিষ্ট জায়গায় বাজার বসানো, দোকানগুলির মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও অ্যাম্বুল্যান্সের বন্দোবস্ত করার উপর জোর দিয়েছে প্রশাসন। উৎসবের দিনগুলিতে বাড়ানো হবে পুলিশি টহলও। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানান, বাজি সংক্রান্ত ব্যবস্থার পাঁচটি পর্যায়— তৈরি, মজুত, পরিবহণ, বিক্রি এবং ব্যবহার— সব ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও বেআইনি বাজি তৈরি বা বিক্রি, কিংবা নির্ধারিত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এলে বাজি বাজেয়াপ্ত করা এবং গ্রেফতারের মতো আইনি পদক্ষেপ করা হবে। অভিযোগ জানানোর জন্য পুলিশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিয়ন্ত্রণকক্ষের নম্বরও শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।