তালসারি যাওয়ার ক’দিন আগেই ডাবিং! রাহুলের শেষ বাংলা ছবি কী হতে চলেছে?

Spread the love

রবিবার শ্যুটিং করতে গিয়ে তালসারির সমুদ্রে ডুবে প্রয়াত হন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। টলিপাড়ায় শোকের ছায়া। শোকাহত তাঁর অনুরাগীরাও। তবে মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কাজের মধ্যেই ডুবে ছিলেন নায়ক। সেই তালিকায় যেমন তাঁর শেষ করা মেগার কিছু পর্ব আছে, তেমনই তাঁর অপ্রকাশিত কাজের মধ্যে রয়েছে তাঁর অভিনীত শেষ ছবিও।

আপাতত পাওয়া খবর অনুযায়ী এটাই রাহুল অভিনীত শেষ ছবি। সিনেমার নাম আইসিইউ (ICU)। এই ছবি ডাবিংয়ের ক’দিন পরই তিনি চিরবিদায় নিলেন। এই ছবিতে তিনটি ছেলের গল্প দেখানো হবে। তারা তিনজন তাদের বাড়িওয়ালার হাত থেকে বাঁচতে একটা প্র্যাঙ্ক করবে। সেই ঘটনাই নানা ভাবে ভাইরাল হয়ে যাবে। তারা নিজেদের অতিপ্রাকৃত বিষয়ক ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে সমাজমাধ্যমে তুলে ধরবে, কিন্তু বাস্তবে তা মিথ্যে। অতিপ্রাকৃতিক বিষয়ে আসলে তাদের সেভাবে ধারনাই নেই। কিন্তু সেই মিথ্যেই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবন, কেরিয়ারের মোড় ঘুড়িয়ে দেবে। বিবেককে গ্রাস করার হুমকি দেবে। তারপর কী হবে তাদের? তারই উত্তর মিলবে আইসিইউ (ICU)-তে। তবে এই ছবি কবে মুক্তি পাবে সেই বিষয়ে অবশ্য এখনও কিছু জানা যায়নি।

এই ছবিতে রাহুল ছাড়াও রয়েছেন আরিয়ান ভৌমিক, শ্রীমা ভট্টাচার্য, শ্রীলেখা মিত্র, দেবরাজ ভট্টাচার্য। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সৌভিক দে। ছবিটির গল্প লিখেছেন অভিষেক ভট্টাচার্য। প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন মনরঞ্জন জানা।

পরিচালক সৌভিক রাহুলের এই আকস্মিক মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন, ‘একেবারেই অপ্রত্যাশিত ভাবে আমরা হারালাম রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিশ্বাস করা কঠিন… খুবই কঠিন। কিছুদিন আগেও একসঙ্গে কাজ করেছি, গল্প করেছি, হাসি-ঠাট্টা করেছি, আর আজ তিনি নেই। এই হঠাৎ চলে যাওয়াটা যেন মেনে নেওয়া যায় না।’তিনি আরও বলেন, ‘রাহুল দা শুধু একজন অসাধারণ অভিনেতা ছিলেন না, একজন দারুণ মানুষও ছিলেন। সেটে তাঁর উপস্থিতি সবসময় একটা আলাদা এনার্জি নিয়ে আসত। তাঁর নিষ্ঠা, তাঁর অভিনয়ের গভীরতা, আমার এই ছবির প্রতিটা ফ্রেমে থেকে যাবে। ব্যক্তিগত ভাবে আমি একজন সহযোদ্ধা, একজন পথপ্রদর্শককে হারালাম। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। আপনি আমাদের মাঝে না থাকলেও, আপনার কাজ আর স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে।’শেষে পরিচালক বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা হল— এই ছবিটা নিয়ে ওঁর একটা আলাদা ভালোবাসা ছিল। ডাবিংয়ের সময় তিনি নিজেই বলেছিলেন, ‘এটা হয়তো আমার শেষ ছবি…’ মজা করে বলেছিলেন। তখন আমরা কেউই কথাটার গভীরতা বুঝতে পারিনি, আজ সেই কথাটাই বারবার কানে বাজছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *