পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ। শনিবার তাঁকে তড়িঘড়ি ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।হঠাৎই ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ পরপর দু বার। বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা। এখন কেমন আছেন অগ্নিদেব?
সুদীপা রবিবার সকালে স্বামীকে দেখে বেরনোর পর, সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ‘আসলে অ্যাপারেন্টলি মনে হচ্ছে ব্যাটার। কিন্তু ডাক্তাররা বলছে সুগার আর প্রেসার হাই। আর দু বার অ্যাটাক হয়েছে, এই ধরনের অ্যাটাকের পর অনেকসময় আরেকটা বড় অ্যাটাক আসে, এই ভয়টা ডাক্তার-রা পাচ্ছেন। তাই ওঁরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আজকের রাতটা ভালোমতো কেটে গেলে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন ভালোর জন্যই প্রার্থনা করছি। আশা করছি সব ভালো হবে। সবাই যেভাবে আমাের পরিবারকে এত ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমাকে মনের জোড় দিয়েছে।’
‘কথা বলতে পারছে, তবে চোখটা, মুখের বাঁদিকে অসম্ভব ব্যথা হচ্ছে। সেটা জানি না ডাক্তাররা কী করবেন। আমরা বেশি প্রশ্ন করছি না, ওঁরা নিজেদের মতো করেই চিকিৎসা করছেন।’, আরও বলেন সুদীপা।
গত দু দিন ধরেই শরীরে সামান্য অসুবিধে টের পাচ্ছিলেন অগ্নিদেব। তবে সেটাকে মাইগ্রেন ভেবে এড়িয়ে যান। প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছিল, বাঁ চোখে ঝাপসা দেখছিলেন এবং ঠিক করে হাঁটতেও পারছিলেন না বর্ষীয়ান পরিচালক। এমনকী টলে পড়ে যাচ্ছিলেন। এদিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়তেও সুদীপা বারংবার সকলের উদ্দেশে বলেন, কোনোরকম শারীরিক সমস্যা হলেই ডাক্তারের কাছে যেতে। নিজেরা গুগল বা চ্যাট জিপিটির উপর ভরসা না করতে।
এদিকে, অগ্নিদেবকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটিতে ব্যস্ত যখন সুদীপা, তখন বাড়িতে একেবারে একা তাঁর ৮ বছরের ছেলে আদিদেব। সুদীপা বলেন, ‘বাড়িতে আদি একদম একা। ওকে খাইয়ে চলে আসব। আদিদেবের জন্য খুব কষ্টের। বুঝতে পারি, ওকে আমরা মিথ্যা বলি না। অনেকে বলে, বলো বাবা শ্যুটিংয়ে গেছে। বলি না, কী করে বলব। সবাই তো এখন মোবাইলে সব কিছু দেখতে পায়। বলেছি, বাবা অসুস্থ। ও বলছে, বাবাকে দেখতে যাব! বুঝতে পারছে না তো ওকে আইসিইউতে ঢুকতে দেবে না।’
