অমিতাভের বাবা-মায়ের প্রেমের গল্প জানেন?

Spread the love

১৯৬৬ সালে মুক্তি পায় মেরা সায়া—যেখানে সুনীল দত্ত এবং সাধনা অভিনয় করেছিলেন। ছবিটির দুর্দান্ত গল্পের পাশাপাশি এর গানগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। এই ছবিরই একটি বিখ্যাত গান ‘ঝুমকা গিরা রে’ আসলে তৈরি হয়েছিল অমিতাভ বচ্চন-এর বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন এবং মা তেজি বচ্চন-এর প্রেমকাহিনির অনুপ্রেরণায়। আজও এই গানটি সমান জনপ্রিয়। খুব কম মানুষই জানেন, এই গানের গীতিকার রাজা মেহদি আলি খান ছিলেন তেজি ও হরিবংশ রাই বচ্চনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁদের প্রেমের সময় তেজির মুখে বলা ‘ঝুমকা’ সংক্রান্ত একটি কথা তাঁর মনে গেঁথে ছিল বহু বছর, যা পরে এই গানে রূপ নেয়।

অমিতাভ বচ্চের বাবা-মায়ের প্রেমকাহিনি

অমিতাভ বচ্চন ও তাঁর পরিবার সবসময়ই ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালেই রেখেছেন। তাই অনেকেই জানেন না, তাঁর কবি বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন-এর জীবনেও ছিল এক গভীর প্রেমকাহিনি। তিনি জীবনে দু’বার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী শ্যামা বচ্চনের মৃত্যুর পর তিনি প্রেমে পড়েন তেজি বচ্চন-এর।

প্রথম দেখা কীভাবে?

এই ঘটনা সেই সময়ের, যখন ভারত-পাকিস্তানের বিভাজন হয়নি। তখনকার দিনে রাজা মেহদি আলি খান প্রায়ই পাকিস্তান থেকে কাজের সূত্রে বরেলিতে আসতেন। সেই সময়েই লাহোরের সরদার খাজান সিং-এর মেয়ে তেজি সুরির সঙ্গে হরিবংশ রাই বচ্চনের পরিচয় ও প্রেমের শুরু।

তাঁদের প্রথম দেখা হয় বরেলিতে, হরিবংশ রাই তাঁর অধ্যাপক বন্ধু জ্যোতি প্রকাশের বাড়িতে গেলে। তখন তেজিও সেই বাড়ির অতিথি ছিলেন। যদিও তেজির বাগদান ইতিমধ্যেই বিদেশে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই বিয়ে করতে চাইছিলেন না।

এরপর আবার তাঁদের দেখা হয় একটি পার্টিতে। পার্টির শেষে বন্ধুদের অনুরোধে হরিবংশ রাই একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। সেই কবিতা শুনে তেজি নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি—একই অবস্থা হয় হরিবংশেরও।

আবেগঘন মুহূর্ত ও প্রেমের শুরু

শোনা যায়, কবিতা শেষ হওয়ার পর যখন দু’জনেই কাঁদছিলেন, তখন ঘরে উপস্থিত অন্য বন্ধুরা তাঁদের একা রেখে বাইরে চলে যান। সেই সময় দু’জন নিজেদের দুঃখ-যন্ত্রণা ভাগ করে নেন এবং সেখান থেকেই তাঁদের প্রেমের সূচনা হয়।

এরপর এক অনুষ্ঠানে রাজা মেহদি আলি খান-এর সঙ্গে তেজি সুরির দেখা হয়। তিনি মজা করে জানতে চান, তেজি ও হরিবংশ রাই কবে বিয়ে করছেন। উত্তরে তেজি বলেন, ‘আমার ঝুমকা তো বরেলির বাজারেই পড়ে গিয়েছে।’

এই কথাটি রাজা মেহদি আলি খানের মনে বহু বছর ধরে থেকে যায়। পরে তিনি এই কথাকেই কেন্দ্র করে লিখে ফেলেন বিখ্যাত গান ‘ঝুমকা গিরা রে বরেলি কে বাজার মে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *